Header Ads

আত্মতুষ্টি নয় ভোটে জিততে সতর্ক থাকুন

আত্মতুষ্টিতে না ভুগে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং আগামী নির্বাচনে প্রতিটি আসনে জয়ের জন্য দল ও সরকারের সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান শেষে গতকাল সোমবার সকালে দেশে ফিরে গণভবনে পৌঁছার পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘শত বাধা-ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই ক্ষমতায় আসতে হয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে বলেই আজ আত্মমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত দেশ। জনসমর্থন থাকায় ও একের পর এক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে পারায়
টানা দুই মেয়াদে দেশের মর্যাদাপূর্ণ সব অর্জন সম্ভব হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু এখনো সেই চক্রান্তে লিপ্ত, সেটা মনে রাখতে হবে আমাদের। আমরা যদি মনে করি ক্ষমতায় আছি, আর এখন চারদিকে আওয়াজ আওয়ামী লীগ তো আবার ক্ষমতায় আসবে, এটা মনে করে আত্মতুষ্টি করার কোনো মানে হয় না। আত্মতুষ্টি হলেই কিন্তু পতন একেবারে অবধারিত।’
আওয়ামী লীগপ্রধান বলেন, ‘সব সময় মনে রাখতে হবে আমাদের একটি বৈরী পরিবেশের সঙ্গে সব সময় লড়াই করে করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রতিপক্ষকে সব সময় শক্তিশালী মনে করেই চলতে হবে। আত্মতুষ্টির জন্য ১৯৯১ সাল এবং ২০০১ সালের মতো আওয়ামী লীগকে যাতে খেসারত দিতে না হয়, সে ব্যাপারে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।’
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দলের সাফল্য সব জায়গায় তুলে ধরতে হবে। ভোটের অধিকার কেবল আওয়ামী লীগই প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।’ তিনি বলেন, ‘দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের কুৎসা রটনা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রতিটি আসনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য একযোগে কাজ করে যেতে হবে।’
আওয়ামী লীগবিরোধীরা এখনো ভীষণভাবে সক্রিয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ পরবর্তী সামরিক শাসক শ্রেণির উচ্ছিষ্টভোগী ও সুবিধাভোগীরা এখনো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছে। যদিও জনগণের মধ্যে তাদের কোনো ভিত্তি নেই, কিন্তু তারা ক্ষমতালিপ্সু। ক্ষমতার লোভে তারা স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এবং খুনিচক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।’
শেখ হাসিনা এক শ্রেণির সংবাদপত্রের সমালোচনা করে বলেন, তাঁর দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য নিয়ে কয়েকটি পত্রিকা বসেই আছে, জনগণকে তাঁর সরকার সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার জন্য নির্বাচনের সময় তারা একটার পর একটা ছেড়ে দেবে। দলের সফল নেতা ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে লেগেই থাকে অভিযোগ করে তিনি এদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রতিটি নির্বাচনের আগেই একটি কুচক্রী মহল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মাঠে নামে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশে মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠায় যতটুকু কাজ, তা আওয়ামী লীগই করেছে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, খুনি, স্বাধীনতাবিরোধী এরা যেন আবার ক্ষমতায় না আসতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং এ সময় বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, নিউ ইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া জাতির পিতার খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাত্ক্ষণিক নির্দেশ দেন।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ কূটনীতি পরিচালনায় অবদানের জন্য নিউ ইয়র্ক সফরকালে পাওয়া ইন্টারপ্রেস সার্ভিসেস নিউজ এজেন্সির ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা দেশের জনগণকে উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যতটুকু অর্জন এটা বাংলাদেশের জনগণের দান। কারণ বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, বিশ্বাস রেখেছেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন বলে দেশের জন্য কাজ করার একটা সুযোগ পেয়েছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। যে কারণে আজ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সম্মান পাচ্ছে। বিশ্বনেতাদের দেওয়া এ সম্মান বাংলাদেশের সম্মান, পুরস্কার দেশের জনগণকে উৎসর্গ করলাম।’
গণভবনে প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

No comments

Powered by Blogger.