বরিশালে শাপলার ১টি দর্শনীয় স্থান! - Pirojpur News | পিরোজপুর নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

সর্বশেষ খবর

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Tuesday, November 24, 2020

বরিশালে শাপলার ১টি দর্শনীয় স্থান!


আজকে আমরা আপনাদের নিয়ে যাব এক ফুলের রাজ্যে। যেখানে চারদিকে শাপলা ফুলের সমারোহ। বরিশাল উপজেলা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে বিশাল এক বিলের মধ্যে দেখা মিলবে এই ফুলের রাজ্যের। বিলের যত ভেতরে যাবেন, ততই চোখে পরবে শাপলা ফুলের গালিচা। এ যেন এক শাপলার রাজ্য। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামে অবস্থিত এই রাজ্য। সাতলা গ্রামের বিলের আগাছা আর লতা-পাতায় ঘেরা হাজারো শাপলা চোখ জুড়াবে পথচারিদের। হ্যাঁ, কথা বলছি শাপলা গ্রামের। আজকে আমরা গল্প করবো বরিশালের সাতলায় অবস্থিত শাপলা গ্রাম নিয়ে।


শাপলা গ্রাম পরিচিতি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামে রয়েছে বিশাল বিল। এই বিল স্থানীয়দের কাছে শাপলার বিল নামে পরিচিত। এখানে কবে থেকে শাপলা ফোটা শুরু হয়েছে তা কারো জানা নেই। কিন্তু গ্রামের বৃদ্ধদের কাছ থেকে জানা যায় জন্মের পর থেকেই তারা এই বিলে শাপলা ফুটতে দেখেন। স্থানীয়রা প্রায় ৮০% শাপলার চাষ করে থাকে। তিন ধরনের শাপলার দেখা মিলবে এই বিলে লাল, সাদা এবং বেগুনি। তবে লাল শাপলাই বেশি দেখা যায়। সাতলার প্রায় ১০ হাজার একর জলাভূমিতে শাপলার চাষ করা হয়। শাপলা গ্রাম থেকেই সারাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে শাপলা ফুল সরবরাহ করা হয়।


কখন যাবেন শাপলা গ্রাম

সারাবছরই কম বেশি শাপলা ফুল ফুটে থাকে এই বিলে। মার্চ থেকে শুরু করে অক্টোবর পর্যন্ত শাপলার সমারোহ থাকে। আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে বেশি শাপলা ফুটে থাকে। তাই এই তিন মাসের মধ্যে গেলে শাপলার অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। আর হ্যাঁ, শাপলা দেখতে চাইলে অবশ্যই খুব ভোরে যাবেন। বেলা পরে গেলে শাপলা ফুলগুলো শুকিয়ে যায় কিংবা ব্যবসায়ীরা বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যায়। তাই সবচেয়ে ভালো হয় এক রাত গ্রামে থেকে সকালে শাপলাবিল দেখতে গেলে। ছবি তুলার জন্য ফটোগ্রাফারদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা এই শাপলা গ্রাম।


খাবারের ব্যবস্থা

শাপলা গ্রামে তেমন খাবারের ব্যবস্থা নেই। কিন্তু এখানকার স্থানীয়রা অতিথি আপ্যায়ন করতে খুব পছন্দ করেন। এছাড়াও গ্রামে লোকাল কিছু খাবারের হোটেল রয়েছে আপনি চাইলে সেখানেও খেতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় বরিশাল শহরে গিয়েই একেবারে খেতে পারলে। শহরে বেশকিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে।


থাকার ব্যবস্থা

এই গ্রামে থাকারও কোন ব্যবস্থা নেই। রাতে থাকতে চাইলে স্থানীয়দের কারো বাড়িতে কিংবা স্কুলঘরে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয়দের সাথে আগে থেকেই কথা বলে নিতে হবে। তাছাড়া আপনি চাইলে বরিশাল ফিরে যেতে পারেন। বরিশালে থাকার জন্য কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল আছে।


কিভাবে যাবেন শাপলা গ্রাম

সাতলার শাপলা গ্রামে যেতে চাইলে প্রথমেই দেশের সব প্রান্ত থেকেই বরিশাল যেতে হবে। ঢাকা থেকে বরিশালে সড়কপথে কিংবা নৌপথে যেতে হবে।


সড়ক পথে কিভাবে যাবেন

সড়ক পথে ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা লেগে যেতে পারে। ঢাকার গাবতলিতে ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত বরিশাল যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। সাধারণত বাসগুলো পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে বরিশাল যায়। তবে কিছু বাস মাওয়া ঘাট পাড় হয়ে বরিশালের দিকে যায়।

ঢাকা থেকে আগত বাসগুলো বরিশালের নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডে এসে থামে। হানিফ পরিবহণ, ঈগল পরিবহন, শাকুরা পরিবহন বরিশাল যাওয়ার জন্য অন্যতম। এক্ষেত্রে এসি বাসগুলোতে ৭০০-৮০০ এবং নন-এসি বাসগুলোতে ৫০০ টাকা করে ভাড়া লাগবে।


তাছাড়াও এই রোডে বেশ কিছু লোকাল বাস চলাচল করে। এসব বাসে বরিশাল যেতে ২৫০-৩০০ টাকা ভাড়া লাগে। এসকল বাস এড়িয়ে চলাই ভালো। এসব বাসে সময় অনেক বেশি লেগে যায়।


নৌপথে কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে নৌপথে বরিশাল যেতে চাইলে প্রথমেই ঢাকার সদরঘাট যেতে হবে।   ঢাকার সদরঘাট রাত ৮-৯ টার মধ্যে অনেকগুলো লঞ্চ বরিশালের জন্য ছেড়ে যায়। সুরভী ৮, পারাবত ১১, সুন্দরবন ৭/৮, কীর্তিনকোলা ১/২ লঞ্চগুলো বরিশালের দিকে ছেড়ে যায়। রাতের লঞ্চগুলো ভোর ৫টায় বরিশাল পৌঁছায়।

আপনি চাইলে সকালেও যেতে পারেন। বরিশালের উদ্দেশ্যে সকালে গ্রিনলাইন লঞ্চ ছেড়ে যায়।

এক্ষেত্রে ডেকের ভাড়া হবে ১৫০ টাকা, ডাবল কেবিনের ভাড়া ১৬০০ টাকা এবং ভিআইপি কেবিন ভাড়া ৪৫০০ টাকা।


বরিশাল থেকে সাতলা কিভাবে যাবেন

লঞ্চ কিংবা বাস থেকে নামার পর বরিশাল থেকে আবার বাসে করে শিকারপুর আসতে হবে। শিকারপুর থেকে অটো ভাড়া করে উত্তর সাতলা যেতে হবে। বরিশালের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সাতলা ও বাগধা গ্রামে যাওয়ার সরাসরি বাস দিয়ে পৌঁছে যেতে পারবেন আপনার গন্তব্যে। এক্ষেত্রে সময় লাগবে ২ ঘন্টা। তাছাড়া বরিশাল থেকে মহেন্দ্র গাড়িতে করে ঘুরে আসতে পারবেন শাপলা গ্রাম।পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসুন শাপলা গ্রাম। এবং উপভোগ করুন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য।

Post Top Ad

Responsive Ads Here