Header Ads

শেখ হাসিনার হাতে ভোটের ম্যাজিক


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ম্যাজিক এখন শেখ হাসিনার হাতে। তিনি তার বিশাল ইমেজ, উন্নয়ন-সাফল্য, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তির মাধ্যমেই বাজিমাত করতে চান ভোটের বাক্সে। এর মধ্যেই তিনি তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। গত পনের দিনে ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে দেখিয়েছেন চমক। এখন টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান শেখ হাসিনা। পাশাপাশি নতুন করে দায়িত্ব নিয়ে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন কায়েম ও অন্যান্য জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। শেখ হাসিনা এবার জনগণের সামনে তুলে ধরছেন তার গত ১০ বছরের উন্নয়ন সাফল্যগুলো। তিনি তারুণ্যকে জয় করে ভোটকেন্দ্রে চমক আনতে চান। প্রার্থী বাছাইয়েও কোনো আপস করছেন না। যোগ্য ও বিজয়ী হবেন এমন প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এলাকায় অবস্থান নেই এমন মন্ত্রী এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতা মনোনয়ন পাবেন না। প্রয়োজনে দল ক্ষমতায় আসার পর তাদের নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু ভোটের বাক্সে আপস হবে না। শেখ হাসিনা এর মধ্যেই ভোটমুখী কাজ শুরু করেছেন। তিনি দেশ বিদেশকে আস্থায় নিয়ে এবার ভোট করতে চান। কোথাও কোনো প্রশ্ন না রেখে জয়ী করতে চান তার দলকে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সারা দেশে উন্নয়নমুখী প্রচারণা শুরু হয়েছে। সব কিছুতেই রয়েছে গোছানো পরিকল্পনা। অতীত অভিজ্ঞতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নই পাবে প্রাধান্য। গত দুই মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, সমুদ্র বিজয়, মহাকাশ বিজয়, নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রচারণা থাকবে। সেই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মাধ্যমে জাতিকে গ্লানিমুক্ত করার বিষয়টিও পাবে বিশেষ গুরুত্ব। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কীভাবে বাংলাদেশ একটি ডিজিটাল দেশে রূপান্তর হলো সেই প্রচারণা আকৃষ্ট করবে তরুণদের। মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার, দারিদ্র্যের মাত্রা কমে অর্ধেকে নিয়ে আসা, এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান, পাশাপাশি টানা সাতের ওপর জাতীয় প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জয়যাত্রা থাকবে প্রচারণার অংশে। বাংলাদেশকে একটি স্থায়ী মানচিত্র দেওয়ার ক্ষেত্রেও শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা চূড়ান্ত করার বিষয়টি আরও এক দফায় তুলে ধরা হবে জাতির সামনে। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়; বিশ্বব্যাপী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গিবাদের বিষফোঁড়াকে বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সাফল্যও ভোটারদের জন্য একটি চমক। সাধারণভাবে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে বিশ্বাসী ভোটারদের জন্যও বিশাল বিশাল সব চোখধাঁধানো অবকাঠামো উন্নয়ন। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে ইতিমধ্যেই প্রমত্তা পদ্মার বুকে দৃশ্যমান করেছেন  শেখ হাসিনা। এর কাজও এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। ঢাকায় একের পর এক ফ্লাইওভার তৈরির মাধ্যমে জনজীবনে স্বস্তি নিয়ে আসার পাশাপাশি মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো অন্যান্য চলমান মেগা প্রকল্পও বড় সাফল্য হিসেবে উঠে আসবে ভোটারের সামনে। বিএনপি-জোট সরকারের মেয়াদে বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন দেশে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের চাহিদার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা প্রচার করা হবে জোরের সঙ্গেই। প্রচারণায় থাকবে পদ্মা রেল সেতু সংযোগ প্রকল্প, পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতির প্রচারণা আসবে জনসমক্ষে। উন্নয়ন প্রচারণার পাশাপাশি টানা দশ বছর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে জীবনাচরণ, প্রত্যেকের জীবনমান ও আয় বৃদ্ধি, প্রত্যেকের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা নিশ্চিত করার সাফল্যের দাবি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি আগের সরকারের সঙ্গে তার সরকারের পার্থক্যের কথা স্পষ্টভাবে ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে পারলেই ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

No comments

Powered by Blogger.