Header Ads

তীব্র গরমে দিশেহারা জাপান, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা


তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে জাপানে৷ গরমে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৪৪ জনের৷ এর মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ সিএনএনের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী জুলাই মাসের ৯ তারিখ থেকে এই মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই মধ্য টোকিওতে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে৷
এছাড়া তাপমাত্রার পারদ ৪১ ডিগ্রি ছুঁয়েছে দেশটির কুমাগায়াতে৷ জাপানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একেই ধরা হচ্ছে৷ জাপান আবহাওয়া বিভাগের বক্তব্য স্বাভাবিকের থেকে এই সময়ে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি৷ দু'হাজারেরও বেশি মানুষকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে মধ্য জাপানে তাপমাত্রা ছিল ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাঁচ বছরের ইতিহাসে ওই অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা।
সাধারণ মানুষকে তাপপ্রবাহের জন্য সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর৷ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছাড়া বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে৷ সরাসরি সূর্যতাপে বেরোতেও নিষেধ করা হয়েছে৷ পাশাপাশি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার করতে বলা হয়েছে যত বেশি সম্ভব৷
জুলাইয়ের শুরু থেকেই তাপমাত্রা চড়া জাপানে৷ স্থানীয় সংবাদসংস্থা কিয়োডো জানিয়েছে
রাজধানী টোকিওর বিভিন্ন এলাকায় ৩ হাজার ৯১টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুলগুলির যাবতীয় শিক্ষামূলক ভ্রমণ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাপানের শিক্ষামন্ত্রণালয়৷ গত সপ্তাহেই ৬ বছরের এক স্কুলছাত্র তাপপ্রবাহের জেরে মারা যায়। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে৷
এদিকে দু'বছর পরে এই সময়েই টোকিও ২০২০ সামার অলিম্পিক শুরু হবে৷ সেকথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে জাপান প্রশাসন৷ হনসু, শিকোকু, কাইশু দ্বীপে থাকবে পর্যটকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা৷ আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে থাকবে বিশেষ সতর্কবাণী৷
হোক্কাইডো দ্বীপে এ বছর রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা গিয়েছে৷ আবহাওয়াবিদ জোয়েল এন মিয়ারসের মতে যে হারে তাপমাত্রা বাড়ছে, তাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে৷ বাড়তে পারে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগের মতো সমস্যা৷ বিপর্যয় মোকাবেলা দফতর জানাচ্ছে গতবছর মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমে ৪৮ জন মারা গিয়েছিলেন। যার মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই ৩১ জনের মৃত্যু হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মতে, ২০১৪ সালেও জাপানের ২১৩টি জায়গায় রেকর্ড পরিমাণ গরম পড়েছিল৷

No comments

Powered by Blogger.