Header Ads

বিশ্বকাপজয়ী বীরদের বরণ করল লাখো সমর্থক


দ্বিতীয়বারের মতো ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ে ফরাসিদের মুখে ছিলো বিজয়ীর হাসি, প্রশান্তির ছায়া। উৎসবের প্রাণকেন্দ্র রাজধানী প্যারিসে শ্যাম্পেনের বৃষ্টিতে ভিজে ভুভুজেলা আর গাড়ির হর্নের বিকট শব্দে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে, আতশবাজির খেলায় মেতে রাজপথে রবিবার নির্ঘুম রাত কাটানোর পরও ক্লান্তি স্পর্শ করতে পারেনি প্যারিসবাসীকে।
 মস্কোয় শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে। লুঝনিকির গ্যালারিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর নাচ দেখেই অনুমান করে নেওয়া যায় প্যারিসে তখন কী চলছিল! পাগলামিতে মাখোঁকে ছাড়িয়ে গেছেন ফরাসি ভক্তরা। শম্পস এলিজির আর্ক দ্য ত্রিয়ম্ফের গায়ে তখন ফ্রান্সের পতাকার রং, আর তার ওপরে এক এক করে ভেসে উঠছিল মস্কোর নায়কদের নাম, সঙ্গে তাঁরা যে শহরের বাসিন্দা সেই শহরেরও। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না প্যারিসের রাস্তায়, এতক্ষণ যাঁরা ঘরের ভেতরে বা কোনো রেস্তোরাঁর বড় পর্দায় খেলা দেখছিলেন, এবার তাঁরাও নেমে এসেছেন রাস্তায়। জোর গতিতে গাড়ি ছুটিয়েছেন, কেউ সে গাড়ির জানালা দিয়ে বিপজ্জনকভাবে শরীর বের করে দিয়ে, কেউ ছাদে বসে কেউ বা আবার পেছনের বুটে পর্যন্ত বসে চিৎকার করে গাইছিলেন বিজয়সংগীত। কেউ চড়ে বসেছেন আইফেল টাওয়ারের লোহার কাঠামো বেয়ে, কেউ বা আবার ল্যাম্পপোস্টে।
 ট্রফি নিয়ে রাশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর আমজনতার উন্মাদনার পালে লাগে বসন্তের হাওয়া। হৃদয়ের সবটুকু উষ্ণতা আর ভালোবাসা দিয়ে চ্যাম্পিয়নদের বরণ করে নিল ফরাসিরা।
 চ্যাম্পিয়নদের স্বাগত জানাতে বিমাবন্দর থেকে শঁজ-এলিজ পর্যন্ত লোকে-লোকারণ্য। দমকল বাহিনী জলকামানের রংধনু বানিয়ে গার্ড অব অনার দিয়ে বরণ করে নেয় । তাদের সংবর্ধনা দিতে বাইরে রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে লাখো সমর্থক। সবার কাঁধে বাঁধা ছিল ফ্রান্সের পতাকা। গায়ে নীল জার্সি আর মুখে আঁকা পতাকার তিনটি রং নীল, সাদা, লাল। আইফেল টাওয়ারও সেজেছিল একই সাজে। বিশ্বকাপজয়ী সোনার ছেলেদের ফুলেল সংবর্ধনায় বরণ করে নেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বাসভবনে কিছু সময় কাটিয়ে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শঁজ-এলিজেতে শোভাযাত্রায় যোগ দেন খেলোয়াড়রা। বাসে নগর প্রদক্ষিণের সময় সিক্ত হন লাখো সমর্থকের ভালোবাসায়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপজয়ী দলের সব খেলোয়াড়কে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান লিজিওন অব অনারে ভূষিত করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.