Header Ads

কেউ নির্বাচনে না এলে কি জেলে পাঠাব?

বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, এটা সম্পূর্ণ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আগামীতে কে সরকার গঠন করবে, সেই সিদ্ধান্ত দেশের জনগণই নেবে। একই সঙ্গে দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আবারও বলেছেন তিনি। সরকারি চাকরিতে কোটা থাকছে না, তা আবারও জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী  বলেন, এ নিয়ে আর আলোচনারও কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফরের বিষয়ে তথ্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিকে আগামী একাদশ নির্বাচনে আনতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনটা হচ্ছে গণতন্ত্র। কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কোন পার্টি নির্বাচন করবে না, এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। একজনের দলীয় সিদ্ধান্তের ওপরে আমি তো আর চাপিয়ে দিতে পারি না, তোমাদের নির্বাচন করতেই হবে। তাহলে তো বলতে হবে, তোমাদেরকে নির্বাচন করতেই হবে, না করলে তোমাদেরকে ধরে নিয়ে যাব জেলে—এটা বলব, না কী বলব?’
গত নির্বাচনে বিএনপির না আসার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪-র ইলেকশনে তারা আসে নাই। তারা নির্বাচন ঠেকাতেও চেষ্টা করেছে। তিন হাজারেরও বেশি মানুষ হত্যা করেছে, ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়েছে, ৭০টি অফিস পুড়িয়ে দিয়েছে, গাছ কেটেছে, রাস্তা কেটেছে, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। পুলিশ হত্যা করেছে। কাজেই এখন নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, সেটা সম্পূর্ণই তাদের ওপর নির্ভর করে।’
আগামী নির্বাচনে নৌকার জয়ে আশাবাদী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইলেকশনে জেতাটা আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি। জনগণ যদি মনে করে যে তাদের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকুক, তাহলে তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে, আমরা আবার ক্ষমতায় আসব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে পরিকল্পনাগুলো নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করে আজকে বাংলাদেশ যে উন্নয়নশীল দেশ, এই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ একটা মধ্যম আয়ের দেশ তো হবেই হবে, একটা উন্নত দেশ হবে। ইনশাআল্লাহ, একমাত্র আওয়ামী লীগই সেটা করতে পারবে। আর কেউ পারবে না। নইলে এত দিন তো ক্ষমতায় ছিল, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া, দেশের উন্নয়ন হয়নি কেন? এখন হচ্ছে কেন?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় না আসলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যে নষ্ট হয়ে যায়, সেটা তো... ৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যে উন্নয়ন করেছিলাম, সেটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ২০০১-এ বিএনপি আসার পর থেকে, সেটা তো সকলেই জানেন। কাজেই ওইভাবে যাতে বাংলাদেশকে আবার ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে না চান, তাহলে নিশ্চয় আওয়ামী লীগকে সবাই ভোট দেবে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।’ 
খালেদার মুক্তিতে কিছু করার নেই : দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে তারা নির্বাচনে যাবে না। আমি তো আর খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠাইনি। আমি যদি চাইতাম রাজনৈতিক কারণে তাঁকে জেলে পাঠাতে পারতাম। ২০১৪, ’১৫-তে যেভাবে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, ৬৮ জন নিয়ে নিজেই নিজেকে বন্দি করল। সেখানে বসে হুকুম দিয়ে মানুষ মারল। আমি চাইলে তখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারতাম। কিন্তু আমি রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বন্দি করতে চাইনি। এমনকি তাঁর ছেলে মারা গেল, আমি দেখতে গেলাম। আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল। আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিল না। অন্য কোনো দেশ হলে কী করত? ওই দরজায় বাইরে দিয়ে আরেকটা তালা দিয়ে বন্ধ করে দিতে পারতাম, যাতে সেখান থেকে কেউ বেরোতে না পারে।’  
খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া জেলখানায় গেছেন। তাঁদের বড় বড় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীরা আদালতে প্রমাণ করতে পারেননি যে খালেদা জিয়া নির্দোষ। আদালত তাঁকে সাজা দিয়েছেন। এখন আমাদের কাছে দাবি করার কী আছে?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বরং আমি একটা অন্যায় করেছি। খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকাকে তাঁর সঙ্গে জেলে থাকতে দিয়ে। বলেন তো কোন দেশে কবে কে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গৃহপরিচারিকা সরবরাহ করেছে? আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দয়াপরবশ হয়ে একজন গৃহপরিচারিকা সঙ্গে দিয়েছেন। আমি জানি না, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এত সোচ্চার, কিন্তু একজন নিরপরাধ মানুষ কেন কারাগারে থাকবে তা নিয়ে কথা বলছে না।’
কোটা নিয়ে এখন হা-হুতাশ কেন : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যে বোধোদয় আপনাদের হলো, কই এই আন্দোলন যখন ছাত্ররা করল তখন সবাই ছাত্রদের পক্ষে এমনভাবে নামলেন, তখন তো আপনারা কেউ ছাত্রদের থামাতে চেষ্টা করেন নাই। তখন তো কারো এই বোধোদয় হয় নাই। আরেকটা কথা, কারা এই আন্দোলনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে সেটা নিয়েও কাউকে সোচ্চার হতে দেখিনি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতায় যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁদের জন্য এই কোটা চালু করে দিয়েছিলেন। এটা ছিল খুবই বাস্তবসম্মত। কিন্তু হঠাৎ করে কথা নাই বার্তা নাই কোটা চাই না আন্দোলন। সেই আন্দোলনে হঠাৎ করে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হলো। এমনিতেই যানজট, তার মধ্যে রাস্তা বন্ধ। সেখানে তিন-চারটা হাসপাতাল, রোগীরা যেতে পারছে না। এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করা হলো।’
তিনি বলেন, ‘এটা তো ছাত্রদের বিষয় না। এটা সরকারের নীতিনির্ধারণের বিষয়। কোটা থাকবে কি না সেটা তো তাদের বিষয় না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ে, যে টাকায় তারা পড়ে, হলে থাকে, পরীক্ষা দেয় সেটা কি সম্ভব? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত হলেও সরকার তাদের টাকা দিয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে থাকে।...তার পরও যখন তারা কোটা চায় না, আন্দোলন। আমি তাদের দাবি মেনে নিয়েছি। এটা তো ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয় না। ছেলে-মেয়েরা দাবি করেছে আমি মেনে নিয়েছি।’
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর সরকারি চাকরিতে কোটা অনুসরণ হয়নি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭২ সালে জাতির পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা অংশ নিয়েছেন তাঁদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা চালু করেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন পর্যন্ত কোটায় কে চাকরি পেয়েছে? আপনারা নিজেরাই বিবেচনা করে দেখেন, ’৭৫-এর পর মুক্তিযোদ্ধারা কেউ কি চাকরি পেয়েছেন? আমি এমন অনেককে জানি, যারা নিজেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছে কিন্তু ফরমে সেটা লেখেনি ভয়ে যে চাকরি পাবে না।...এখনকার ছেলে-মেয়েরা তারা এটা জানে না? তারা এটা পড়েনি? বোঝে না? ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেখলাম মুক্তিযোদ্ধাদের আর চাকরির বয়স নাই। তখন তাদের পরিবারের সদস্যদের, পরিবারের সদস্য কারা সে বিষয়েও বলা আছে—সন্তান-সন্ততি ও নাতিপুতি। যেহেতু দেখলাম অনেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেরও আর চাকরির বয়স নাই তখন তাদের নাতিপুতিদের কোটা দেওয়া হলো। এখন সেটা নিয়ে যেহেতু কথা উঠেছে, কোটা বাদ দিলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যঙ্গ করে কথা বলা, অসম্মান করা আমার পক্ষে সম্ভব না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোটায় কী আছে? জেলা কোটা। আপনারা চিন্তা করে দেখেন, কোনো কোনো জেলা থেকে ১৫ জন চাকরি পেয়েছে, আর কোনো কোনো জেলা থেকে মাত্র দুজন চাকরি পেয়েছে। তা-ও কোটা আছে বলেই। আর যে ছেলেরা বিভিন্ন হোস্টেলে থাকছে তারা কি কোনো জেলা থেকে আসেনি?...যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারাও তো মেধাবী। পরীক্ষা নেওয়ার সময় তো আর কোটা বাছাই হচ্ছে না। পাস করার পর কোটা থেকে নেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা চাই না, এত আন্দোলন, এত কিছু। ঠিক আছে, আমি দাবি মেনে নিয়েছি। এরা তো আমার নাতির বয়সী। আমার নাতি তো এখন কলেজে পড়ে। তারা যখন বলেছে, আমি দাবি মেনে নিলাম। সব কোটা বন্ধ। এখন আবার নতুন কোনো কথা উঠবে কেন, হা-হুতাশ কেন?’
কোটা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘যেটা করে দিয়েছি, করে দিয়েছি। আর কোটার দরকার নাই। কারণ স্বাধীনতার প্রায় ৪৬ বছর হয়ে গেছে। এখন যে যার মতো করে পাবে। আর কেউ যদি না পায় আমাদের কিছু করার নাই। যারা আন্দোলন করেছে তাদের ছবি সংগ্রহ করা আছে। এখন দেখা যাবে ওই জেলার কারা কারা আন্দোলনে ছিল, সেটা আমরা দেখব। তারপর যদি এসে কান্নাকাটি করে, আমাদের কিছু করার নাই। আমার পরিষ্কার কথা।’
তারেককে দেশে ফেরাতে আলোচনা চলছে : লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার যে অপরাধ সেটা আমাদের দেশে সংঘটিত। এফবিআই এসে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। দুইটা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, আরো মামলা আছে। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি লন্ডনে বসে আন্দোলন করে তার মায়ের মুক্তির জন্য। সেও তো সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। আমরা নিশ্চয় একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নিয়ে আসব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবাক হয়ে যাই বিএনপির বিষয়ে। একটা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে গেলে তাকে কিন্তু নিজ দেশের পাসপোর্ট সারেন্ডার করতে হয়। তারপর সে ট্রাভেল ডকুমেন্টস পায়। সেখানে স্পষ্ট লেখা থাকে, যে দেশের সে পাসপোর্টধারী সেখানে সে আসতে পারবে না। কারণ আপনি আশ্রয় চেয়েছেন ওই দেশে। স্বদেশে যখনই আসবেন আর ওই দেশের আশ্রয় থাকবে না। এ ধরনের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল, তারা মনে করে সব থেকে শক্তিশালী দল, সবচেয়ে জনপ্রিয় দল, সেই দলে কি তারা বাংলাদেশ থেকে একজন নেতা খুঁজে পেল না? একজন পলাতক আসামিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করা হলো। এর চেয়ে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আর কী আছে?’
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায় : রোহিঙ্গা ইস্যুতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কমনওয়েলথ মিয়ানমারকে অনুরোধ করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কমনওয়েলথ সম্মেলনে ৪৬টি সদস্য রাষ্ট্র অংশ নেয়। এতে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ আরো পাঁচ বিষয় নিয়ে কথা হয়। রোহিঙ্গা ইসু্যুতে মিয়ানমারকে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কমনওয়েলথ অনুরোধ করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। সম্মেলনের ঘোষণায় রোহিঙ্গাবিষয়ক অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়েছে, যেটা আমাদের সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া চীন, জাপান, রাশিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও এ ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে একটা চাপ তো পড়বেই। কিন্তু এটাই তো মানবতা।...এখন আমাদের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। আন্তর্জাতিকভাবে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। যে কারণে আমাদের ওপর তেমন কোনো চাপ পড়ে নাই। বড় কোনো চাপ এলে আমরা দেশের মানুষ ভাগ করে নেব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু সমস্যা তো হচ্ছেই। বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে এসেছে সহযোগিতা করতে। তবে আস্তে আস্তে তা কমে যাবে। সে জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। আর তাদের যেন দ্রুত ফেরত পাঠাতে পারি সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ভোটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের উল্টাপাল্টা কমিটি গ্রহণযোগ্য নয় : আসন্ন ছাত্রলীগের সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের সম্মেলন যেভাবে হওয়ার হবে। আমাদের একটা নিয়ম আছে। সাধারণত সমঝোতা হয়। যদি সমঝোতা না হয় তবে ভোট হয়।’ তিনি বলেন, ‘ভোটের আবার কিছু ভালোও আছে মন্দও আছে। সেটাও দেখতে হবে। আমরা চাই একটা যোগ্য নেতৃত্ব এবং ছাত্র। একটা বয়সসীমা বাঁধা আছে। ওই বয়সসীমার মধ্যে সত্যিকারের যারা ছাত্র, মেধাবী, তারা যেন নেতৃত্বে আসে সেটাই আমরা চাই। যদি দেখা যায় ভোটের মাধ্যমে উল্টাপাল্টা হচ্ছে, সেটাও নিশ্চয় গ্রহণযোগ্য হবে না। এটাও মাথায় রাখতে হবে।’
সৌদি জোটে গেলেও যুদ্ধে জড়াবে না বাংলাদেশ : সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে অংশ নিলেও বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধে জড়াবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধীনে হলেই কেবল যুদ্ধে জড়াবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে গিয়ে মাইন পরিষ্কার বা অন্য কাজগুলো করবে বাংলাদেশের সেনারা। কিন্তু তারা যুদ্ধ করবে না।
পথচারীদেরও কিছু ট্রাফিক নিয়ম জানা ও মানা দরকার : সড়কে দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাস্তা পার হওয়ার জন্য হয় ফুট ওভারব্রিজ করা আছে না হয় আন্ডারপাস। আপনি ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে পার হন। একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আসছে। হঠাৎ আপনি একটা হাত উঁচু করে থামাতে দৌড় মারলেন। আপনি অ্যাকসিডেন্ট হলেন। কাকে দোষ দেবেন? চালকের নাকি আপনার নিজের? যারা পথচারী তাদেরও কিন্তু কিছু ট্রাফিক রুলস জানা দরকার, মানা দরকার।’
পথচারীদের সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা কয়েকটা সেকেন্ড একটু কাজে লাগান সচেতনতা তৈরিতে। রাস্তায় হাঁটার সময় কী করণীয়, পারাপারের সময় কী করণীয়। এভাবে বাচ্চাদের নিয়ে মা পার হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে গাড়ি আসছে, দুই গাড়ির চাপায় পড়ে একজন মা মারা গেল। দুই গাড়ির চাপার মধ্যে মা ঢুকল কেন? কাকে শাস্তি দেবেন আমাকে বলেন? আমার কথাগুলো অনেকের পছন্দ হবে না জানি। কিন্তু যেটা বাস্তবতা আমি সেই কথাটাই বলতে চাই। আমি খুব ডিটেইল বিষয়টা অবজার্ভ করি।’

No comments

Powered by Blogger.