Header Ads

বাংলাদেশকে চাপে ফেলছে শ্রীলঙ্কা

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথমদিনে কি দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দেখালেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয়দিনেও তার ছোঁয়া ছিল। তাতে করে বিশাল রানও করা গেছে। কিন্তু এরপর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা এতটাই দুর্বার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তাতে করে ধীরে ধীরে এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছে লঙ্কানরা, উল্টো চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে চাপে ফেলছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ যখন প্রথম ইনিংসে ৫১৩ রান করল তখন মনে হলো শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলবে। কিন্তু উল্টো বাংলাদেশকে চাপে রেখেছে লঙ্কানরা। দুই ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিস (১৯৬) ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা (১৭৩) মিলে এমন ব্যাটিংই করে দেখালেন, দ্বিতীয় উইকেটে ৩০৮ রানের জুটি গড়লেন। এ দুইজন আউট হওয়ার পর রোশেন সিলভা (৮৭*) ও অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল (৩৭*) মিলে দলকে ৫০০ রানে নিয়ে যান। তৃতীয়দিন শেষ হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ৫০৪ রান যোগ করে ফেলে শ্রীলঙ্কা। দাপট দেখায়। দিনটি নিজেদের করে নেয়ার সঙ্গে মাত্র ৯ রানে পিছিয়ে থাকায় লিড যে নেবে নিশ্চিত তার অপেক্ষায় এখন শ্রীলঙ্কা। তাতেই চাপে থাকছে বাংলাদেশ। আজ চতুর্থদিনে শ্রীলঙ্কা যদি দ্রুত ২০০ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামে। তাহলে বিপদও ঘনিয়ে আসতে পারে। বোলাররা এবং ফিল্ডাররা তো প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ করেছেনই। এখন সব চাপ ব্যাটসম্যানদের ওপর পড়ছে। ব্যাটসম্যানরা যদি দ্বিতীয় ইনিংসেও ভাল কিছু করে দেখাতে পারেন তাহলে ম্যাচ থেকে ভাল ফল তুলে আনা সম্ভব। না হলে বাংলাদেশের ঘাড়েই চাপ তৈরি হয়ে থাকছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে যে জুটিটি গড়েছেন মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়া তা এই উইকেটে সেরা জুটি। ২০০২ সালের অক্টোবরে ইস্ট লন্ডনে দ্বিতীয় উইকেটে গ্রায়েম স্মিথ ও গ্যারি কার্স্টেনের করা বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৭২ রানের জুটিকেও টপকে যান তারা। আর ৪ রান করতে পারলে তো বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০০৭ সালের জুলাইয়ে ক্যান্ডিতে কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়বর্ধনে মিলে যে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ ৩১১ রানের জুটি গড়েছিলেন তা ভেঙ্গে ফেলতেন মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়া। তা হতে পারেনি। কিন্তু এই দুইজন ডাবল সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে আউট হয়েছেন। তাতেই শ্রীলঙ্কা বড় স্কোর গড়ার দিকে চলে যায়। প্রথমদিন এই দুইজন ১৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন। তৃতীয়দিন এসে জুটিটাকে ৩০০ রানের ওপরে নিয়ে গেলেন। এই জুটিতেই অনেক বড় স্কোরের দিকে চলে যায় শ্রীলঙ্কা। স্পিনারে ভরা দল বাংলাদেশ। অথচ তিন স্প্যাশালিস্ট স্পিনার, পার্টটাইম স্পিনার আরও দুইজন বোলিং করেও কিছুই করতে পারেননি। সিলভা শুরুতে ক্যাচ আউট হওয়া থেকে বেঁচে বড় স্কোরই গড়ে ফেলেন। সেঞ্চুরির পথেও আছেন। আজ সেই সেঞ্চুরি করেও ফেলতে পারেন। শুক্রবার ছিল মেন্ডিসের জন্মদিন। ‘বার্থ ডে’ বয় একাধিকবার ‘নতুন জীবন’ পেয়ে ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে থেকে আউট হন। তিনি ৪১৫ রানে গিয়ে তাইজুল ইসলামের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ৩০৮ রানে ডাবল সেঞ্চুরির পথে থাকা ধনঞ্জয়াকে আউট করে ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেন মুস্তাফিজ। বিশাল বড় একটি জুটি ভাঙ্গেন। এরপর সিলভাকে নিয়ে মেন্ডিস আরও ১০৭ রানের জুটি গড়ে আউট হন। মেন্ডিস যেমন একাধিকবার ‘নতুন জীবন’ পেয়ে ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি চলে যান। সিলভাও ঠিক একই পথের পথিক হতে চলেছেন। সিলভার সঙ্গে চান্দিমাল চতুর্থ উইকেটে ৮৯ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। দুইজন মিলে দলকে আরও বড় স্কোরের পথে এগিয়ে নিতে আজ ব্যাট হাতে নামবেন। তৃতীয়দিন প্রথম সেশনে কোন উইকেটই নিতে পারেনি বাংলাদেশ। মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়া মিলে বাংলাদেশ বোলারদের ভোগান। সকালের সেশনে ৩০ ওভারে ১০৮ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। কোন উইকেট হারায়নি। বাংলাদেশ বোলাররা কোন উইকেট তুলে নিতে পারেননি। দ্বিতীয় সেশনে গিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের সেরা দুই ব্যাটসম্যান আউট হন। স্বস্তি মিলে। কিন্তু সেই স্বস্তিও বেশিক্ষণ পুঁজি করতে পারেনি বাংলাদেশ। উইকেট যেত আরেকটি। উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাস ১ রানে থাকা সিলভার ক্যাচটি ধরতে পারেননি। তাতে করে আর উইকেট নেয়া যায়নি। দিনের তৃতীয় সেশনেও উইকেটশূন্যই থাকে বাংলাদেশ। সারাদিনে মাত্র ২টি উইকেট নিতে পারেন বাংলাদেশ বোলাররা। কী করুণ দশা! এই দশায় এখন বিপদেই আছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা প্রথম সেশনেই বেশি লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করলে; এরপর বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা ভাল করতে না পারলে; আজ চতুর্থদিনের পর রবিবার পঞ্চমদিনের প্রথম সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা খেলতে না পারলে; বাংলাদেশের বিপদ থাকছে। আর সেই বিপদ এড়াতেই এখন চাপে থাকছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে চাপে ফেলছে শ্রীলঙ্কা।

No comments

Powered by Blogger.