Header Ads

ইসলামে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব

রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘দুনিয়াতে আমার তিনটে বস্তু অতি প্রিয়; সুগন্ধি, সৎ নারী এবং নামাজ। যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রী-সন্তানদের জন্য যা কিছু ব্যয় করবে, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে। এমন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে নামাজি মুজাহিদ ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করবে।’ স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অনেকগুলো অধিকার রয়েছে তেমনি ইসলামে ধর্মে  স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অনেক দায়িত্ব রয়েছে। প্রথম অধিকার মোহর বাসর রাতেই মোহর আদায় করা উচিত। সে রাতে যদি আদায়ের সামর্থ না থাকে, তবে অতি দ্রুত আদায় করা আবশ্যক। যদি স্ত্রীর জীবদ্দশায় মোহর আদায় করে না থাকে, আর সে অবস্থায় স্ত্রীর ইন্তেকাল হয়ে যায়, তাহলে কেয়ামতের দিন এ বিষয়ে স্বামীকে জিজ্ঞেস করা হবে। তাকে আসামির কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। আর বিয়ের সময়ই যার নিয়ত এমন থাকে, সে স্ত্রীকে মোহরই দেবে না; কেবল মোহরের কথা মুখেই স্বীকার করে, সে ব্যভিচারীর হুকুমের আওতায় পড়বে। তার স্ত্রী-মিলন ব্যভিচার বলে গণ্য হবে। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কমবেশি মোহরের বিনিময়ে কোনো নারীকে বিয়ে করে, যদি তার অন্তরে মোহর আদায়ের ইচ্ছে না থাকে, তাহলে সে যেনো সেই নারীকে ধোঁকা দিলো। সুতরাং যদি সে মোহর আদায় করা ছাড়াই মারা যায়, কেয়ামত দিবসে সে আল্লাহর সামনে ব্যভিচারী হিসেবে উত্থিত হবে।’ যে ব্যক্তি মোহর আদায়ের নিয়তে কোনো নারীকে বিয়ে করে এবং মোহর আদায়ও করে দেয়, প্রতি দিরহামের বদলে তার আমলনামায় একটি করে হজের সওয়াব লেখা হয়। তবে যদি স্ত্রী স্বামীর বলা-কওয়া ছাড়াই মোহরের দাবি ছেড়ে দেয়, তাহলে স্ত্রী অনেক সওয়াবের অংশিদার হবে। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ তায়ালা ঐ নারীর জন্য জান্নাত আবশ্যক করে দেন। প্রতি দিরহামের বদলে একটি করে দাসমুক্তির সওয়াব দেন। প্রতি দানেক (একটি আরবীয় হিসেব পরিমাণ)-এর প্রতিফল হিসেবে ছ’মাসের ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লিখে দেন।’ অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘কোনো স্ত্রী যদি স্বামীকে মোহরের দাবি হতে মুক্ত করে দেয়, আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি মকবুল হজ এবং একটি ওমরা হজের সওয়াব দান করেন। স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও পূর্ণ খরচ বহন করা স্বামীর জন্য সাধ্যের মধ্যে থেকে স্ত্রীকে উত্তম ভরণ-পোষণ দেওয়া এবং তার পূর্ণ খরচ বহন করা আবশ্যক। স্বামী যদি ধনী হয়, তাহলে স্ত্রীর জন্য সেবক-সেবিকারও ব্যবস্থা করবে, যদি স্ত্রী দাবি করে। স্ত্রীকে পানাহারে কষ্ট দেবে না। কোনো বিষয়ে তাকে পেরেশান করবে না। বৈধপন্থায় স্বামী যা কিছু স্ত্রীর জন্য ব্যয় করবে, আল্লাহ তায়ালার কাছে এর প্রতিদান অবশ্যই পাবে। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি নিজ স্ত্রীর জন্য দিল-মন উজার করে ব্যয় করবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে (পূণ্যে) ধনী বানিয়ে দেবেন। জান্নাতে সে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে থাকবে এবং বড় মর্যাদার অধিকারী হবে।’ স্ত্রীকে সাধ্যানুযায়ী উত্তম পরিচ্ছদ দেওয়া ঋতুর আবর্তন-বিবর্তনের প্রতি লক্ষ্য রেখে স্বামী স্ত্রীর জন্য উত্তম পোষাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করবে। যেমন শীতের ঋতুতে শীতের কাপড় এবং গ্রীষ্মকালে ঋতু উপযোগী পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করবে। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) কে লোকেরা জিজ্ঞেস করেছিলো, ‘পূর্ণ বছরে স্ত্রীর জন্য কয় জোড়া কাপড়ের ব্যবস্থা করা আবশ্যক?’ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘স্বামী গরিব শ্রেণির হলে বছরে তিনজোড়া আর ধনী হলে চারজোড়া কাপড়ের ব্যবস্থা করা স্বামীর ওপর আবশ্যক। ’ মোটকথা, পোষাক-পরিচ্ছদে স্ত্রীর কষ্ট না পাওয়া চাই। একজোড়া ছিঁড়ে যাবার আগেই স্বামী নিজ সামর্থানুযায়ী আরেক জোড়ার ব্যবস্থা করে দেবে, যাতে স্ত্রী খুশি থাকে। আর পোশাকের জন্য তাকে পেরেশান হতে না হয়। অলংকার ও সাজসরঞ্জামের ব্যবস্থা করা স্বামীই স্ত্রীর জন্য শ্রেষ্ঠ অলংকার। কেননা নারী স্বামীর মাধ্যমেই পূর্ণতায় পৌঁছে। হাদিসে এসেছে, ‘ঐ নারী মহিয়সী ও বরকতধন্য, যার স্বামী দ্রুত মিলে যায়।’ তবে যেহেতু নারীরা পার্থিব সাজগোছের প্রতি সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল হয়ে থাকে এবং অলংকার ও সাজগোছের সরঞ্জামের মাধ্যমেই নিজের সৌন্দর্যকে স্বামীর সামনে পূর্ণমাত্রায় ফুটিয়ে তোলে; এমনকি এর দ্বারা তাদের প্রতি স্বামীদের ভালোবাসাও বেড়ে যায় বহুগুণে। তাই স্বামী নিজ সাধ্যানুযায়ী স্ত্রীর জন্য সাজসরঞ্জাম, অলংকারাদির ব্যবস্থা করবে। এতে করে স্ত্রীর মনরক্ষা হবে। সে স্বচ্ছন্দ্য হবে। পারস্পরিক প্রীতির বন্ধনও দৃঢ়, পোক্ত হবে। এক সাহাবি রাসুল (সা.)-এর দরবারে হাজির হয়ে আরজ করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আমার স্ত্রীকে অলংকারে সজ্জিত করি, এতে আপনার কী মত?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘অলংকার নারীর জন্য শোভা। আর তোমার জন্য সওয়াবের ভা-ারস্বরুপ। যে কেউ নিজ স্ত্রীকে অলংকার পরায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন।’



No comments

Powered by Blogger.