পাউলিনহোর এখন এত দাম

লোকে বলে, ‘যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ।’ কিন্তু পাউলিনহোকে দেখলে বলতে হয়, ‘যায় দিন খারাপ, আসে দিন ভালো।’ ফুটবলের বাজারে পাউলিনহোর দামটা যে ক্রমশ বাড়ছে!
তিন বছর আগের কথা। টটেনহাম ছেড়ে পাউলিনহো যোগ দিয়েছিলেন গুয়াংজু এভারগ্রান্ডেতে। ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডারের সুদিনের পক্ষে তখন লন্ডন কিংবা চীনের সবচেয়ে বেপরোয়া বাজিকরটিও হয়তো টাকা লগ্নি করতেন না! কেন করবেন? পাউলিনহো যে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিলেন।
গত বছরের আগস্টে বার্সায় যোগ দেওয়ার দুই মাস আগের কথাই ধরুন—একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে পাউলিনহোর সহশিল্পী ছিলেন জাপানের এক পর্নো তারকা। এ নিয়ে তখন কত হইচই আর সমালোচনা! সবাই ভেবেছিল, এই পাউলিনহোকে নিয়ে আশা করাই বৃথা। কিন্তু পাশার দান উল্টে গেছে। বলা ভালো, পাউলিনহো নিজেই তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। সেটা অবশ্যই বার্সেলোনায় আসার পর থেকে। একটা তথ্য দেওয়া যায়, এবার লা লিগায় ১২ ম্যাচে এ পর্যন্ত ৪ গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। একই আসরে পাউলিনহো করেছেন ১৬ ম্যাচে ৬ গোল! বার্সায় এটাই পাউলনিহোর প্রথম মৌসুম। বড় মাপের খেলোয়াড়দেরও কোনো ক্লাবে মানিয়ে নিতে অন্তত একটা মৌসুম লেগে যায়। ‘বক্স-টু-বক্স’ খেলতে অভ্যস্ত এই মিডফিল্ডার কিন্তু সেখানে ব্যতিক্রম। লা লিগার প্রায় অর্ধেক পথ পর্যন্ত বার্সার তৃতীয় (মেসি ও সুয়ারেজের পর) সর্বোচ্চ গোলদাতা কিন্তু এই পাউলনিহোই। m এ ছাড়া নিখুঁত পাস (৮৮ শতাংশ) আর প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কাড়ার (২১টি ট্যাকল আর ৮টি ইন্টারসেপসনস) ক্ষেত্রে পাউলিনহোই বার্সা কোচ আর্নেস্তা ভালভার্দের ভরসা। প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে শট নেওয়ার ক্ষেত্রেও ইভান র‍্যাকিতিচ-লুই সুয়ারেজের মতো খেলোয়াড়দের পেছনে ফেলেছেন পাউলনিহো। জাতীয় দলের জার্সিতেও গত বছর ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫) ছিলেন পাউলিনহো। ‘অ্যাসিস্ট’ সংখ্যায়ও নেইমার আর উইলিয়ানের সঙ্গে যুগ্মভাবে (৩) শীর্ষে।
আর তাই দলবদলের বাজারে ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের দামটা বাড়ছে হু হু করে। জার্মান ওয়েবসাইট ট্রান্সফার মার্কেটের জরিপ অনুযায়ী, নতুন বছরের শুরুতে পাউলিনহোর যে দাম, তা গত বছর বার্সায় তাঁর ট্রান্সফার ফি থেকে তিন গুণ! তাঁকে কিনতে ৪ কোটি পাউন্ড খরচ করেছিল বার্সা। ওয়েবসাইটটির হিসেব অনুযায়ী, সেই পাউলনিহোর দাম এখন ১২ কোটি পাউন্ড!
নিজেকে এভাবে পাল্টে ফেলায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ফুটবলমোদীদের মধ্যে দারুণ সাড়াও ফেলেছেন পাউলিনহো। ইউরোপে গত বছরের পারফরম্যান্স বিচারে এবার সাম্বা ডি’অর ২০১৭ ট্রফি পেয়েছেন নেইমার। এটা ইউরোপে বর্ষসেরা ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পুরস্কার, যেখানে ব্রাজিলের সাংবাদিক আর সাবেক খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাও ভোট দিয়ে থাকেন। নেইমার (২৭.৭%), কুতিনহো (১৬.৭%), মার্সেলোর (১৪.৫ %) পর পাউলিনহো এই তালিকায় চতুর্থ। কিন্তু যদি শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ভোট হিসাব করা হয়, তাহলে নেইমার নন, পুরস্কারটি জিততেন পাউলিনহোই!
মোট ৫০ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে পাউলিনহো একাই পেয়েছেন ৩১ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ, যে সমর্থকেরা একসময় তাঁকে মন থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন, এখন তাঁরাই পাউলিনহোর পাশে। সত্যিই পরিশ্রম আর একাগ্রতা থাকলে কী না হতে পারে!

Comments