Header Ads

মুমিনুলের জবাব দিলেন তুষার-মোসাদ্দেক

ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকান মুমিনুল হক সৌরভ। তার জবাবে ব্যাট হাতে লড়াই করেছেন প্রাইমব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের তুষার ইমরান ও তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন। তুষার তার ১৫৩ প্রথম শ্রেণির ম্যাচের ক্যারিয়ারে হাঁকিছেন ২৫ সেঞ্চুরি। আর মাত্র ৩৫ রান হলেই দেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ৪ দিনের ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মালিক হবেন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া এ ক্রিকেটার; অন্যদিকে ২৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি মোসাদ্দেকের ৮ম সেঞ্চুরি। চোখের সমস্যার কারণে জাতীয় দলে নেই অনেক দিন থেকেই। কিছু দিন হলো তিনি সেরে উঠেছেন।তবে শতভাগ ফিট আছে কি না দেখে নিতে তাকে বিসিএলে খেলার সুযোগ দেন নির্বাচকরা। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১০ রানের ইনিংস। এমন ইনিংসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুমিনুলের সঙ্গে তার টেস্ট দলে জায়গা পাওয়া অনেকটাই এখন নিশ্চিত ধরে নেয়া যায়। পূর্বাঞ্চলের ৫৪৬ রানের জবাবে দক্ষিণ অঞ্চল তৃতীয় দিন শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে করেেছ ৩১৮ রান। এখনো তারা পিছিয়ে আছে ২২৮ রান। বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনো বড় অঘটন না ঘটলে ম্যাচ আজ চতুর্থ দিনে ড্র’র পথেই। কারণ পূর্বাঞ্চলের প্রথম ইনিংসের জবাবে এখনো দক্ষিণাঞ্চল ব্যাট করে যাচ্ছে। হাতে আছে আরো ৫ উইকেট। 
কুয়াশার কারণে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হয়েছে দুপুর সোয়া একটায়। এরপরও ৫৯ ওভার হওয়ার কথা থাকলেও হতে পেরেছে ৪৮ ওভার। আগের দিন ৫৯ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর জুটি বেধেছিলেন তুষার ও মোসাদ্দেক। দলকে আরও অনেক দূর নিয়ে যায় এই জুটি। আগের দিন জুটিতে বেশি অবদান ছিল মোসাদ্দেককে। তবে এদিন তরুণ প্রতিভাকে ছাড়িয়ে স্ট্রোক বেশি খেলেছেন তুষারই। এক সময় রান মোসাদ্দেকের অর্ধেক থাকলেও পরে তুষারই সেঞ্চুরিতে পৌঁছান আগে। ১৪৮ বলে তুষার স্পর্শ করে তার ২৫তম সেঞ্চুরি। ২৩ সেঞ্চুরিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি নাঈম ইসলামের। এই ইনিংস শেষে তার ক্যারিয়ার রান ৯ হাজার ৯৬৫। অন্যদিকে মোসাদ্দেক সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ২০০ বলে। মাত্র ২৪ ম্যাচেই করে ফেললেন ৮টি সেঞ্চুরি। ৩৮ ইনিংসে ২ হাজার ৪১৮ রান করেছেন ৬৯.০৮ গড়ে। দুজনই আউট হয়েছেন সেঞ্চুরির পরপর। ১৮ চারে ১৬৩ বলে ১০৫ রান করে অলক কাপালির বলে বোল্ড হয়েছেন তুষার। চতুর্থ উইকেট জুটির রান ছিল ২১৮। মোসাদ্দেক ফিরেছেন সোহাগ গাজীর বলে। ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১১০ করেছেন ২২৬ বলে। দলের বাকি সময়টা নিরাপদে কাটিয়ে দিয়েছেন আল আমিন ও অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।
রকিবের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও লজ্জার মুখে মধ্যাঞ্চল

ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি হাঁকালেন রকিবুল হাসান। তবে ফের ব্যর্থ দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা। এতে ম্যাচের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে হারের মুখে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। আর ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জা বাঁচাতে আজ কমপক্ষে ৩৫ রান দরকার তাদের। মধ্যাঞ্চলের হাতে রয়েছে মাত্র তিন উইকেট। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক প্রথম শ্রেণির আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) গতকাল ২৩৪/৭ সংগ্রহ নিয়ে ম্যাচের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে মধ্যাঞ্চল। এর আগে ১৮৮ রানের জবাবে গতকাল ৪৫৭/৭ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বিসিবি উত্তরাঞ্চল। এতে প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানে এগিয়ে যায় তারা। আর সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালো ছিল না মধ্যাঞ্চলের। দলীয় ২১ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। অপর ওপেনার রনি তালুকদার উইকেট খোয়ান দলীয় ৪০ রানে। আর ইনিংসের মাত্র ২১ ওভার শেষে ৮৪/৫ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কা গাঢ় হয় মধ্যাঞ্চলের। তবে ষষ্ঠ উইকেটে ১১৪ রানের জুটি গড়েন রকিবুল হাসান ও তানভীর হায়দার। দলীয় ২১৯ রানে নিজের উইকেট দেয়ার আগে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রকিবুল হাসান। ১৫২ বলে ১০৫ রানের ইনিংসে রকিব হাঁকান ১৭টি বাউন্ডারি। ৯৩ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে রকিবুল হাসানের এটি ১১তম সেঞ্চুরি। আগের দিনের ৪৩৩/৭ সংগ্রহ নিয়ে গতকাল অল্পতেই দুই উইকেট খোয়ায় বিসিবি উত্তরাঞ্চল। আগের দিন ব্যক্তিগত ১৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন উত্তরাঞ্চল অধিনায়ক জহিরুল ইসলাম অমি। আর গতকাল নিজের নামের পাশে আর ৬ রান যোগ করে তাসকিন আহমেদের শিকার হন জহিরুল। দলীয় ৪৫৭ রানে ফরহাদ রেজাকে সাজঘরে ফেরান শুভাগত হোম চৌধুরী। পরের ওভারেই নিজের বিদায়ে ইনিংস ঘোষণা করেন উত্তরাঞ্চল অধিনায়ক। মধ্যাঞ্চলের বল হাতে ২৭.৪ ওভারের স্পেলে ১২২ রানে চার উইকেট নেন জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়া পেসার তাসকিন আহমেদ।

No comments

Powered by Blogger.