Header Ads

সময়ের কাজ সময়ে

দৈনন্দিন জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যবস্থাপনা। সময় ব্যবস্থাপনা আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। যদি আপনি সঠিকভাবে তা প্রয়োগ করতে পারেন। সময়কে ঠিকমতো গুছিয়ে নিতে পারলে আপনার দ্বারা সবই সম্ভব। সময় ব্যবস্থাপনা হলো সময়ের সদব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো। এর ধরন ব্যক্তি ও পরিবেশ ভেদে ভিন্ন। পেশাগত ভিন্নতার কারণেও এর ধরন ভিন্ন হতে বাধ্য। সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে সফলতা আসবেই। একজন সুনাগরিক, আদর্শ ব্যক্তিত্ব ও জীবন গঠনে সময় ব্যবস্থাপনা জানা প্রয়োজন। সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর উপায়গুলো দেয়া হলো-
সময় কম নষ্ট করুন সময়কে কোন কাজে না লাগানোর অর্থই হচ্ছে সময় হত্যা। ইংরেজীতে একে বলা হয় টাইম কিলিং। চাই সে সময় যত অল্পই হোক না কেন। এভাবে মূল্যায়ন করলে দেখা যায় প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত কি পরিমাণ সময়কে আমরা হত্যা করি। সময় ব্যয়ের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ আপনি সময়কে অপচয় করলেন না ঠিকই কিন্তু এক ঘণ্টার কাজ ২ ঘণ্টায় করলেন। কারণ আপনার সময় ব্যয় করার স্বাধীনতা আছে। এটা করা যাবে না। এ স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দায়িত্বশীলের কাজের গতি হতে হবে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। এক ঘণ্টা সময়ে আপনি কত বেশি কাজ করতে পারেন সে চেষ্টা করতে হবে। কাজের অগ্রাধিকার তালিকা করা কাজের অগ্রাধিকার তালিকা না থাকলে আপনি ইচ্ছামতো কাজ করতে পারেন। ফলে দিনের শেষে ধরা পড়বে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ থেকে গেছে আর কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয়েছে। কাজের অগ্রাধিকার তালিকা করা থাকলে কোন কাজ যদি বাদ দিতে হয়, তো কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাদ দেয়া সম্ভব হবে। দূর করুন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কোন কাজ কোন সময় করবেন? কোনটা করবেন, কোনটা করবেন না? এ নিয়ে অনেকে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগেন যা মোটেই ঠিক না। এ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে অযথা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। কারও কারও এমন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে মধ্যে পুরো দিনটাই কেটে যায় কোন কাজ আর করা হয় না। এটি খুবই খারাপ স্বভাব। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করে নির্বিঘেœ কাজ করে যেতে হবে। আগের দিন কাজের তালিকা ঠিক করে রাখুন। সময়ের কাজ সময়ে করা যখন যে কাজের সময় তখন তা না করে অন্য কাজ করলে তাতে মনোযোগ থাকে না। ফলে কাজে ভুল হয়, কাজে দেরি হয়। অন্য সময়ে করতে গেলে উপায় ও সহযোগিতা না পাওয়ায় প্রচুর সময় অপচয় হয়। কাজের সময়সূচী সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট হওয়া প্রতিটি কাজের সময়সূচী লিখিতভাবে থাকাটাই উত্তম। পড়া কিংবা কাজটি শুরু কয়টায়? শেষ কয়টায়? সব লেখা থাকতে হবে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন কাজটি অবশ্যই শেষ করা যায়। শেষ সময়ের জন্য কাজ রেখে না দেয়া একেবারে শেষ সময়ে কোন কাজ করার জন্য রেখে দেয়া ঠিক নয়। কারণ তখন কাজটি করার সুযোগ নাও পাওয়া যেতে পারে। একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা করা দায়িত্বশীল ব্যক্তি ঢিলেঢালা কিংবা অকর্মা হতে পারে না। তাকে অবশ্যই অনেক কাজ করতে হবে। এক কাজের দোহাই দিয়ে অন্য কাজকে পিছে ফেলে রাখা বা না করা দায়িত্বশীল ব্যক্তি করতে পারে না। কাজেই এক সঙ্গে অনেক কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। গাড়িতে বসে প্রয়োজনীয় ফোন করার কাজটা সেরে নেয়া যেতে পারে। ক্লাসে স্যার আসতে দেরি হচ্ছে কিংবা আসবেন না, এই সুযোগে প্রয়োজনীয় লেখাটা বা নোটটা লিখে নেয়া যায়। একই সঙ্গে নিজে কাজ করা, অন্যান্য দায়িত্বশীলদের কাজ বুঝিয়ে দেয়া ও বাকিদের তদারকি করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.