Header Ads

ছিনিয়ে নিল দুই আসামি ॥ জঙ্গী স্টাইলে প্রিজনভ্যান ভাঙল বিএনপি কর্মীরা

এবার জঙ্গী স্টাইলে পুলিশকে মারধর করে প্রিজনভ্যান ভেঙ্গে বিএনপির দুই নেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে। বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ছিনিয়ে নেয়া নেতাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অজ্ঞাত শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজন বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এর আগে একই মামলায় হাজিরা শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীরা শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করে রীতিমতো হাইকোর্টসহ আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের খেলার মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে হাজিরা দিতে যান। বরাবরের মতো এবারও তাঁর হাজিরা উপলক্ষে আদালত চত্বর, হাইকোর্টসহ আশপাশের এলাকায় বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা আগ থেকে অবস্থান করতে থাকেন। পুলিশ জানায়, সকালেই কয়েক দফায় নেতাকর্মীরা ঝামেলা করার চেষ্টা করেন। পুলিশ খুবই ধৈর্য ধরে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীরা অনেকটা ইচ্ছাকৃতভাবেই পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা করতে যান। এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা সোহাগ মজুমদার (৩৮) ও ওবায়দুল হক মিলনকে (৪০) আটক করে। তাদের রাখা হয় হাইকোর্ট চত্বরের সামনে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের গেটের কাছে রাখা একটি প্রিজনভ্যানে। বেলা তিনটার দিকে খালেদা জিয়া যথারীতি আদালত থেকে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হন। রাস্তায় নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়ির সামনে পেছনে মিছিল করতে থাকেন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একদল নেতাকর্মী স্লেøাগান দিয়ে হাইকোর্টের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে থাকা প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে আটককৃত দুই নেতা অন্য নেতাকর্মীদের জোরে ডাক দেন। তাদের সেখান থেকে নিয়ে যেতে বলেন। ডাক দেয়ার পর নেতাকর্মীরা হাতের কাছে যা কিছু পায়, তাই দিয়েই প্রিজনভ্যানে ঢিল ছুড়তে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রিজনভ্যানে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নেতাকর্মীদের বাধা দেন। এ অবস্থায় বিএনপি কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় পুলিশের ওপর চড়াও হন। পুলিশকে বেধড়ক মারধর করেন। দুই পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পুলিশের একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে হামলাকারীরা। এরপর প্রিজনভ্যান ভেঙ্গে ভেতরে থাকা দুই নেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শত শত নেতাকর্মীর সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে পুলিশ আর তাদের শনাক্ত করতে পারেনি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বাবু, জাভেদ ও হুমায়ুন নামে বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জনকণ্ঠকে বলেন, খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে সকাল থেকেই পুলিশ খুবই সর্তক অবস্থায় ছিল। আগে থেকেই জড়ো হওয়া নেতাকর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশের সঙ্গে আগের কয়েকবারের মতো ঝামেলা করার চেষ্টা করেছে। পুলিশ তাদের সেই পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। কয়েক দফায় ঝামেলা করার চেষ্টা করলে বিএনপির দুই নেতাকে আটক করা হয়। আটককৃত বিএনপির কোন বড় নেতা ছিলেন না। তাদের রাখা হয়েছিল প্রিজনভ্যানে। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রিজনভ্যান থেকে আটককৃত দুই নেতা ডাক দিয়ে তাদের নিয়ে যেতে বলেন। আর তখনই বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রিজনভ্যানের ওপর হামলা করে। পুলিশকে মারধর করে আটককৃত দুইজনকে ছিনিয়ে নেয়। ছিনিয়ে নেয়া নেতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সন্ধ্যা সাতটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি। প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেয়া দুই নেতার সন্ধান চলছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা চলছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েক বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে খালেদা জিয়া আদালত থেকে ফেরার পথে গত দুই মাসে এ নিয়ে চার দফায় তা-ব চালাল বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এর আগে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার একই মামলায় হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় মারাত্মক তা-ব চালিয়ে রীতিমতো হাইকোর্ট, বকশীবাজার, দোয়েল চত্বর, প্রেসক্লাবসহ আশপাশের এলাকায় রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত করেছিল বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই দিন নেতাকর্মীরা বহু যানবাহন ভাংচুর করেছিল। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তাতে অন্তত ২৫জন আহত হয়েছিলেন। পুলিশ ২৬ জনকে আটক করেছিল। এমন তা-বে রীতিমতো বিপাকে পড়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সেগুনবাগিচা বারডেম-২ হাসপাতাল, বারডেম হাসপাতাল ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়া রোগী ও তাদের স্বজনরা। তা-বের সময় মানুষ প্রাণভয়ে দোকানপাট, প্রিয়গাড়িসহ অন্যান্য সামগ্রী ফেলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ওই দিনের তা-ববিএনপি-জামায়াত-শিবিরের ২০১৪ ও ২০১৫ সালের তা-বের চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না।

No comments

Powered by Blogger.