Header Ads

সামরিক হটলাইন চালু করবে দু’কোরিয়া অনুষ্ঠিত বৈঠককে সতর্কতার সাথে সাধুবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া গত মঙ্গলবার দেশ দুটির মধ্যকার সামরিক হটলাইন পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছে। সিউলের এক কর্মকর্তা একথা জানান। বেসামরিক আন্তঃসীমান্ত টেলিফোন লাইন পুনরায় চালু হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেশ দু’টি সামরিক হটলাইন পুনঃস্থাপনে সম্মত হল। ওই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে সামরিক টেলিফোনটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবরে বলা হয়, সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে সামরিক আলোচনার বিষয়েও রাজি হয়েছে উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়া। দুই বছরের মধ্যে প্রথমবার দু’দেশের উচ্চ-পর্যায়ের এক বৈঠকে এ মতৈক্য হয়। মাসের পর মাস ধরে চলা উত্তেজনার মাঝেই এবার দুই কোরিয়ার শুধু সামরিক আলোচনার জন্যই মতৈক্য হয়নি, সেইসাথে দক্ষিণ কোরিয়াতে ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে উত্তর কোরিয়া। প্রতিবেশী দেশ-দুটির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা গত মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজামে বৈঠকে বসেন। দিনব্যাপী দর-কষাকষির পরে উভয় দেশের নেতাদের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয় এবং সামরিক আলোচনায় সম্মত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যদিও আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দল পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে আলোচনায় নেতিবাচক ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এ বৈঠককে সতর্কতার সাথে সাধুবাদ জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, শীতকালীন অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণের ফলে যাতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আমেরিকা দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে, ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এমন কাজ স্থগিতের জন্য প্রতিবেশী দেশের প্রতি আহŸান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। জবাবে উত্তর কোরিয়া সম্মত হয়েছে যে, এই উপদ্বীপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে সিউলের দেওয়া পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার প্রস্তাবে জোরালো আপত্তি জানানো হয়েছে পিয়ং ইয়ংএর পক্ষ থেকে। কোরিয়ান যুদ্ধে বিভক্ত হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো যাতে একত্রে মিলিত হতে পারে সে প্রস্তাবও এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে। দেশটি বলছে, তারা জাতিসংঘের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে যাতে নির্বিঘেœ প্রতিবেশীরা অলিম্পিকসে অংশ নিতে পারে। তবে এসব প্রস্তাবের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। সা¤প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ উপেক্ষা করে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একটা সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে টেলিফোনসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় পিয়ং ইয়ং। এএফপি, বিবিসি।

No comments

Powered by Blogger.