Header Ads

ভোটের জন্য ‘আইভোট’

যাঁরা ভোটার হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই জানা আছে ভোট গ্রহণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে। শুরুতে ভোটার হতে হয়। এরপর নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ভোট কেন্দ্রে ব্যালট, ব্যালট বাক্স থাকে। ভোট দিতে আসা ব্যক্তি নিবন্ধিত ভোটার কি না, পরীক্ষা করে দেখেন পোলিং এজেন্ট। যাচাইয়ের পর ব্যালটে সিল মেরে ভোটার ভোট দেন পছন্দের প্রার্থীকে। তারপর ব্যালট পেপার জমা দেন ব্যালট বাক্সে। ব্যালট গুনে প্রকাশ করা হয় নির্বাচনের ফলাফল।

কিন্তু ব্যালটের পরিবর্তে পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা সম্ভব। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম চালিত ডেস্কটপ, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার করে যেকোনো নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছেন গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) সাবেক শিক্ষক এম আখতার উজ জামান। তাঁর বানানো সফটওয়্যারটির নাম দেওয়া হয়েছে আইভোট।
সফটওয়্যারটি সম্পর্কে আখতার উজ জামান বলেন, এমন সফটওয়্যার তৈরির ধারণা আসে ২০০৩ সালে। যেই ধারণা এল, তারপরই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুরু করে দিলেন কাজ। তাঁর দাবি, ওই সময় তিনি সিস্টেম অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সেখানকার একটি নির্বাচনে শতভাগ সাফল্যের সঙ্গে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করেন। এ ছাড়া স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি নির্বাচনে ইতিমধ্যে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে আইভোট নামের ওই সফটওয়্যার।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য এই সফটওয়্যারে আছে বেশ কিছু সুবিধা। সফটওয়্যারটি নামিয়ে আগে থেকে ভোটার তালিকা তৈরি কিংবা তৎক্ষণাৎ ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ আছে এবং তা হালনাগাদ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যাবে। ভোটার যাচাই, ব্যালট নির্বাচন ও ভোট দেওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। ভোট দেওয়ার পর এক ক্লিকেই জানা যায় ভোটের ফল। এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থীদের প্রতিনিধি ও নিরাপত্তাকর্মীদের তাৎক্ষণিক ডেটাবেইস করার সুবিধাও আছে। সফটওয়্যারটির সুবিধা সম্পর্কে এর নির্মাতা বলেন, ভোটের ক্ষেত্রে এটি শতভাগ ইলেকট্রনিক সমাধান। এতে দ্রুত নির্ভুল ফল জানা ও ভোট পরিচালনার সুবিধা আছে।
এটির নিরাপত্তা ও মান সম্পর্কে তাঁর দাবি, সফটওয়্যারটির অবকাঠামো
বেশ শক্তিশালী। যেকোনো নির্বাচনে যত পদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক না কেন অথবা একটি পদের বিপরীতে যতই প্রার্থী থাকুন না কেন, সফটওয়্যারটি নির্ভরযোগ্য। এটি নিরাপত্তা ও শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে।
তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেমন খরচ পড়বে? বলেন, আপাতত ছোটখাটো নির্বাচনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কম খরচে সফটওয়্যার সেবা দিতে আগ্রহী। তবে বড় ধরনের নির্বাচনে ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও খরচ বেশি লাগবে।
জানালেন আরও কিছু কাজ ও পরিকল্পনার কথা। ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন সংলাপ ডটনেট নামের ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার। এখন কাজ করছেন আইইসি বা ইনস্ট্যান্ট ইলেকশন কমিশন নামের একটি বেসরকারি কমিশন গঠনের ধারণা নিয়ে।

No comments

Powered by Blogger.