Header Ads

হিসাব একটাই- জিততে হবে

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ আজ। অথচ সবার মুখে মুখে একটি নাম, চন্দিকা হাতুরাসিংহে। তিনি যে বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ। এই সিরিজের আগে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়েছেন। এই সিরিজ থেকেই শ্রীলঙ্কার কোচ তিনি। যখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই খেলা তখন হাতুরাসিংহেকে নিয়ে আলোচনা হওয়াটাও স্বাভাবিক। কিন্তু সেই হাতুরাসিংহের বিষয়টি ভাবতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররাও না আবার চাপ নিয়ে ফেলে। সেই সুযোগই নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে হাতুরাসিংহের প্রসঙ্গ উঠতেই বলে দিয়েছেন, ‘জিততে হবে।’ অন্য কোন কিছু নিয়ে ভাবতেই নারাজ মাশরাফি। হাতুরু আলোচনা কতটুকু প্রভাব ফেলে? প্রশ্ন উঠতেই মাশরাফি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে এসব ম্যাটার করে না। ব্যাক অব মাইন্ডে এটা তো থাকে, ম্যাচটা খেলতে হবে, জিততে হবে। এর বাইরে কোন সুযোগই নাই চিন্তা করার। চিন্তা করলে হয়কি আল্টিমেটলি আরও বেশি চাপ আসে। আমার কাছে মনে হয় খেলার দিকেই সবার মনোযোগ থাকে। সেটাই আছে আমরা যেন আরও ভাল খেলি। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি সেভাবে খেলি। ওইদিকেই সবাই ভাবছে আর এটাই হয়।’ জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে জয় অনুপ্রেরণা? মাশরাফি জানান, ‘আমাদের অনুপ্রাণিত করার ব্যাপার হচ্ছে আমরা কেমন খেলছি। কারণ আল্টিমেটলি মাঠে নেমে আমরা কি খেলছি, সেটাই বুস্টআপ করতে পারবে। প্রথম ম্যাচে আমরা যেভাবে খেলেছি আশাকরি কালকেও (্আজ) যেন আমরা ওইভাবে পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলতে পারি।’ তারপরও জিম্বাবুইয়ের কাছে শ্রীলঙ্কার হার আলাদা কিছু? মাশরাফি বলেন, ‘আসলে তা না। জিম্বাবুইয়ে কাল যে ব্র্যান্ডটা খেলেছে। আমাদের তো ওইভাবে খেলতে হবে। এমন না যে জিম্বাবুইয়ে ভাল না খেলে জিতেছে। ওরা যে ক্রিকেটটা খেলেছে, নির্দিষ্ট দিনে এমন ক্রিকেট না খেলে জেতা সম্ভব না। আমাদের সঙ্গে শ্রীলঙ্কাও এমন খেলতে পারে। তাই আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। যাতে এমন পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আর জিম্বাবুইয়ে যে ক্রিকেটটা খেলেছে আমাদের জিততে হলে ওই ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একটা কথা বলেছিলাম ফাইনালে যাওয়ার আগে ধারাবাহিক চারটা ম্যাচ জিতে যাওয়া, একটা দুইটা ম্যাচ এদিক ওদিক হয়ে যায়, তাই ওইদিকেই ফোকাস থাকা উচিত। আমরা সেটাই চিন্তা করছি। প্রতিপক্ষ যে কোন সময় এমন খেলতে পারে, বিশেষ করে যে দুইটা দলের বিপক্ষে খেলব, তাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের এখানে খেলার অভ্যাস আছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এ্যাডভান্টেজটা আমরা বেশি নিতে পারি।’ শ্রীলঙ্কাকে চমকে দেয়া? ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ‘আলাদা করে চমক দেয়ার কিছু নেই। যেটা হচ্ছে আমরা যেভাবে খেলতাম সেভাবেই খেলব। হাতুরাসিংহে থাকতেও এখানে এসে বলতাম আমরা আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতা নিয়ে ক্রিকেট খেলতে চাই। আপনি যদি দেখেন প্রায় তিন বছর আড়াই বছর পর বিজয় দলে এসে সে যেভাবে ক্রিকেট খেলেছে একজ্যাক্টলি আমরা এটাই চাই। ভয়হীন ক্রিকেট খেলুক। অবশ্যই ওর জায়গা থেকে ওর রানটাকে বড় করার সুযোগ ছিল। কারণ লক্ষ্যটা এতো বড় ছিল না। আমাদের সেই চাপ ছিল না। তারপরও ও যেভাবে ব্যাটিং করেছে আমরা শতভাগ তাকে ব্যাকআপ করব। এটা শো করে যে অনেক পজিটিভ। তার মাইন্ড সেটআপ আমরা দল থেকে যেটা চাই সেভাবেই সে খেলেছে। আমি বলতে চাচ্ছি এগুলোই আপনাকে বড় বড় ম্যাচ বা ভাল ম্যাচ জিততে সহযোগিতা করবে। এছাড়া বাইরের অনেক কিছু চিন্তা করে মাঠে ঢোকা যে এমন পরিকল্পনা করব। আর শুধু চিন্তা করলেই হয় না মাঠে তার প্রয়োগটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
এ্যাঞ্জলো ম্যাথুস, থিসারা পেরেরার মতো ফিনিসার মিস করেন কিনা? মাশরাফি বলেন, ‘এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের যদি ইনজুরিগুলো না ভোগাতো তাহলে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হতে পারতো। হতে পারতো কি অবশ্যই হতো। ওই সামর্থ্য ওর অবশ্যই আছে। এখন হয়তো ইনজুরির জন্য বোলিং করতে পারে না। থিসারা পেরেরা বোলিংটা অনেক ইম্প্রুভ করেছে। ব্যাটিংটা ও এমনই করতো। আমরা স্পেশিয়ালি ওয়ানডে টি২০তে এমন খেলোয়াড়ই খুঁজছি। আমাদের নতুন একজন দুইজন কিছু খেলোয়াড় এসেছে। সাইফউদ্দিন এসেছে, আবুল হাসান রাজু অনেকদিন পর দলে এসেছে। ওদের সে সামর্থ্য আছে। আত্মবিশ্বাস আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার যে এ্যাডজাস্টমেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওরা যদি এটা এ্যাডাপ্ট করতে পারে আমি বিশ্বাস করি ওদের এ সামর্থ্য আছে। এটা এমন না যে একদিনে হয়ে যাবে। এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপগুলো নিতে নিতে এই এ্যাডজাস্টমেন্টটা হবে।’ সঙ্গে সাকিবের তিনে খেলা নিয়ে বলেন, ‘সাকিবকে তিনে ব্যাটিং করানোর পিছনে আমার যুক্তিতা এটাই যে গত তিন চার বছরে অনেক খেলয়াড়কেই বদল করা হয়েছে। সাকিব গত ১০/১২ বছর ধরে পারফর্মেন্স করেছেন। আমি নিশ্চিত যে ওরচেয়ে বেশি ওর পারফর্মেন্স নিয়ে কনসার্ন আর কেউ হবে না। ও যদি একটা দুইটা তিনটা ম্যাচ ফেইল করে আমি নিশ্চিত ওই একমাত্র খেলোয়াড় যে কামব্যাক করতে পারবে। কারণ তার নিজস্ব একটা ভাবমূর্তি বিশ্ব ক্রিকেটে আছে। আমার কাছে মনে হয় ওর সেই সামর্থ্য আছে আর যদি টপে সাকিব, তামিম, মুশফিক, বিজয় আছে রিয়াদ ব্যাটিং করছে। এই পাঁচজন যদি..., আমি বলছি এটা পজিটিভ চিন্তা রিস্ক থাকলেও এটা পজিটিভ চিন্তা। পাঁচজনের মধ্যে যদি দুইজন ৪০ বা ৪৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারে, আমরা যে কোন উইকেটে জয়ের রানের কাছাকাছি পৌঁছে যাব। পাশাপাশি সাব্বির রহমান রুম্মনের ভাল কিছু ইনিংস আছে। ওই সময় যে ইনিংস খেলতে হয় সে সামর্থ্য ওর আছে। ৭/৮-এ কি করতে পারি আমার কাছে যেটা মনে হয় ওই জায়গাটা ওপেন আছে। যারা অলরাউন্ডার আছে যারা দলে সুযোগ পেয়েছে তাদের জন্য বড় সুযোগ এবং আমি এটা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।’ হাতুরাসিংহে এবং গণমাধ্যমকে পেছনে ফেলার জন্য জয়টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? মাশরাফি বলেন, ‘পেশাদার জগতটা এরকম, হারলে তো প্রশ্ন উঠবেই। হাতুরার জায়গায় আমি থাকলেও প্রশ্নটা উঠত। দক্ষিণ আফ্রিকায় কেউই পারছে না, আমরাও পারিনি, তারপরও একই সমালোচনা হয়েছে। হয়নি তা তো না। কেউ পারছে না বলে আমরা পারব না, এটা কোন অজুহাত নয়। আমাদের মাথায় রাখতে হবে যেখানেই যাই আমাদের কাজ পারফর্ম করা। সেটা করতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় পারিনি, এখানে আমাদের জন্য বড় সুযোগ। কাল (আজ) আমরা চেষ্টা করব, সেরাটা দেয়ার। আমরা ইতিবাচক আছি। অনুশীলন দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, তারা অনেক চেষ্টা করছে টুর্নামেন্টে ভাল করার। বিশেষ করে গত সিরিজটা আমাদের জন্য ভাল যায়নি। কঠিন জায়গাটা যদি বলেন এত সমালোচনা এত কিছু হয়েছে, ওই স্বাধীনতা নিয়ে মাঠে খেলতে পারব কি না সেটা বড় চ্যালেঞ্জ। এমন তো না একটা সিরিজের পর খেলা ভুলে গেছি। যে স্বাধীনতা নিয়ে আমরা শেষ দুই আড়াই বছর খেলেছি, একটা সিরিজের পর এত সমালোচনা। ওই স্বাধীনতার জায়গা থাকে কিনা। আমরা খুবই খুশি, বিজয় এসে ওই রোলটা প্লে করছে। তামিম নিজের খেলাটা খেলছে। মুস্তাফিজ আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে। আমি যখন চার পাঁচটি স্লিপ রেখেছি, সে বলেছে রাখেন। এই যে মানসিকতা, সাহস এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা থাকলে অনেক কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া যায়। এর মধ্যেই উত্থান পতন থাকবে, খারাপ সময় যাবে। কিন্তু আমরা এই ব্র্যান্ডটাই খেলতে চাই। কালকে (আজ) আমরা যেভাবে যা প্ল্যান করছি, সেটা কতভাগ কাজে লাগাতে পারি। সেটা করতে পারলে ভাল কিছুই হবে।’

No comments

Powered by Blogger.