Header Ads

ভাললাগা না ভালবাসা

জীবন চলার পথ কখনও সহজ নয়। পেরোতে হয় নানা চড়াই-উৎরায়। এই বন্ধুর পথ চলার সময় অনেক মানুষের সঙ্গেই আমাদের পরিচয় হয়। তাদের কারও কারও সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই বন্ধুত্ব কখনও কখনও স্থায়ী রূপ নেয়। আবার কখনও তা ভেঙেও যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্থায়ী বন্ধুত্বটা ভালবাসায় রূপ নেয়। আবার প্রথম দেখায় ভাললাগা এবং পরে ভালবাসাও হতে পারে। যা হোক, ভালবাসার কোন সীমানা নেই। এটি একেকজনের কাছে অনেক রকম। কেউ সত্যিকার অর্থেই কাউকে ভালবেসে ফেলেন। কেউবা আবেগের বশেই কারও প্রতি আকৃষ্ট হন। এই দুটো বিষয়ের মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে। কোনটি ভাললাগা বা আবেগ আর কোনটি ভালবাসা এটা বুঝতে আমরা অনেকেই ভুল করে ফেলি। এক্ষেত্রে বিষয়টা জানতে আপনার পছন্দের মানুষটিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। দেখবেন এর জবাব পেয়ে গেছেন খুব সহজেই। লিখেছেনÑ টুটুল মাহফুজ ভালবাসা নিঃস্বার্থ, আবেগ স্বার্থপর আপনি যখন কাউকে ভালবাসবেন তখন তাকে নিয়েই আপনার যত চিন্তা। তার ভাল লাগা-মন্দ লাগা সবকিছুই আপনার নখদর্পণে। ছোট ছোট ব্যাপার নিয়ে আপনি তার সঙ্গে ঝগড়া করবেন। তার করা কাজগুলোতে আপনি নিজেকে খুঁজবেন, তাকে কিভাবে সুখে রাখা যায় তা খুঁজে বের করবেন। এখানেই ভালবাসা নিঃস্বার্থতা। অন্যদিকে আবেগের ক্ষেত্রে আপনি অনেক কিছুই বলতে পারবেন কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আপনি আর সে কাজ করতে পারবেন না। সঙ্গীর চিন্তাশক্তিতে আপনি নিজেকে না বরং আপনার চিন্তাশক্তিতে তাকে রাখতে চাইবেন। ভালবাসায় মুক্তি, আবেগে বন্দী ভালবাসায় মানুষ একে অন্যকে অনেক বিশ্বাস করে। একে অন্যকে প্রচুর সময় দেয়। পছন্দের মানুষের করা কাজকে নিজের মনে করে। তাকে কারও সঙ্গে মিশতে বাধা দেয় না। ভালবাসায় হারানোর ভয় থাকলেও তার ওপর বিশ্বাসের জন্য তার প্রভাব পড়ে না। অন্যদিকে আবেগ আর ভাললাগায় কেবলই হারানোর ভয় থাকে। তাই তাকে যে কোন কাজেই দেওয়া হয় বাধা। তাকে নিজের কাছে আটকে রাখার চেষ্টা চালানো হয়। ভালবাসা মানে পরস্পরকে বোঝা আর আবেগ মানে চাপিয়ে দেওয়া ভালবাসায় নিজেদের মাঝে খুব ধীরে ধীরে পরস্পরকে বুঝতে পারার সম্পর্ক তৈরি হয়। এতে যে কোন সমস্যা সমাধান করা সহজ হয়। আর আবেগের ক্ষেত্রে পরস্পরকে বুঝতে পারাটা চাপিয়ে দেওয়া হয়। জোর করে একে অন্যকে বুঝতে চেষ্টা করা হয়। যা ভালবাসায় আপনাআপনি সৃষ্টি হয়। ভালবাসা অনন্ত, আবেগ অস্থায়ী ভালবাসা কখনও শেষ হয় না। এটি মানুষের মাঝে ধীরে ধীরে কেবল বৃদ্ধিই পায়। কিন্তু আবেগ ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং একটা সময় তা শেষও হয়ে যায়। কাজেই যে কোন সম্পর্কে জড়ানোর আগে জেনে নিন কিছু টিপস। এতে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন- আপনি ভুয়া কোন সম্পর্কে জড়িয়েছেন কিনা। বোঝার চেষ্টা করে না সুখে-দুঃখে সবসময় আপনি সঙ্গীর সঙ্গে সবকিছুই শেয়ার করেন। তার পাশে দাঁড়ান। কিন্তু বিপদে আপনি তাকে কখনই কাছে পান না। এমনটি হলে বুঝে নিন আপনি ভুয়া সম্পর্কে জড়িয়েছেন। সমঝোতা নেই আপনার দুজনের মধ্যে যদি কোন সমঝোতার বিষয় না থাকে তাহলেও বুঝবেন সম্পর্ক ভুয়া। এ ধরনের সম্পর্কের কোন মানে নেই। এটি কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কাজেই এ সম্পর্ক থেকে তখনই সরে আসুন। প্রশংসা না করা আমরা সবাই যে প্রশংসা শুনতে ভালবাসি এতে কোন সন্দেহ নেই। আর একটি শক্তিশালী সম্পর্কেই কেবল ছোটখাটো নানা বিষয়ে প্রশংসা করতে দেখা যায়। অন্যথায়, এর ব্যতিক্রম হলেই বুঝবেন ভুল সম্পর্কে জড়িয়েছেন। চিন্তা না করা আপনি কি করছেন, কোথাও যাবেন কিনা, সঙ্গীর কোন কথায় আপনি কষ্ট পেয়েছেন কিনা প্রভৃতি নানা বিষয় একটি শক্তিশালী সম্পর্কে থাকে। এমনটি না ঘটলে বুঝবেন মরীচিকার পেছনে ছুটছেন। কাজের ব্যাখ্যা দেয়া সবসময় সঙ্গীকে আপনি ভালবাসার কথা বলেন। তার কাছে আপনার প্রতিটি কাজের জবাবদিহি করেন। কিন্তু আপনার সঙ্গী ভুল করেও ভালবাসা প্রকাশ তো দূরে থাক আপনার পর্যাপ্ত সময়টুকুও দিতে চায় না। এ রকম লক্ষণেও বুঝে নিন আপনি ভুয়া সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কাজেই নিজের কল্যাণেই এসব ভুয়া এবং ভিত্তিহীন সম্পর্ক থেকে দূরে সরে আসুন।

No comments

Powered by Blogger.