Header Ads

রেকর্ড ১৬৩ রানে জিতে ফাইনালে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচটিতে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৩ রানে হারিয়েও দিল। রানের দিক দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়টিও তুলে নিল বাংলাদেশ। এই জয়টি পেয়ে টানা দুই ম্যাচে জিতল মাশরাফিবাহিনী। তাতে ফাইনালেও উঠে গেল। দুই ম্যাচেই একটি করে বোনাস পয়েন্টসহ ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলা নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে হারায় টানা দুই ম্যাচে হারল শ্রীলঙ্কা। ফাইনালের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়া কঠিন হয়ে পড়ল লঙ্কানদের। ম্যাচটিতে টস জিতে বাংলাদেশ। রৌদ্রকরোজ্জ্ব¡ল আকাশ। তাই আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এমন পরিস্থিতিতে যে ব্যাটিং করতে সুবিধা। আগে বড় স্কোর গড়তে পারলে বিশাল টার্গেট শ্রীলঙ্কার সামনে ছুড়ে দিতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। ব্যাটসম্যানরা এমন ব্যাটিংই করলেন, জয়ের জন্য যত রান দরকার; তাই করে দেখালেন। ওপেনার তামিম ইকবাল (৮৪), সাকিব আল হাসান (৬৭), মুশফিকুর রহীমের (৬২) অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ৫০ ওভারে ৩২০ রান করে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো তিন ’শ রানের বেশি করল বাংলাদেশ। এত বিশাল রান অতিক্রম করতে গিয়ে সাকিব আল হাসান (৩/৪৭), রুবেল হোসেন (২/২০) ও মাশরাফির (২/৩০) বোলিংয়ের সামনে পড়ে খেই হারিয়ে ফেলেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। শেষ পর্যন্ত ৩২.২ ওভারে ১৫৭ রান করতেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হতেই তড়িঘড়ি করে ড্রেসিংরুম থেকে উইকেট দেখতে এসে পড়লেন শ্রীলঙ্কান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে। অনেকক্ষণ উইকেটের সব স্থান ভালভাবে দেখলেন। উইকেট স্পর্শ করে দেখলেন। বাংলাদেশ যে এই উইকেটেই এত রান করেছে, কিভাবে করল? তাই যেন দেখলেন। শ্রীলঙ্কার বোলিং এতটাই খারাপ অবস্থায় গেছে যে জিম্বাবুইয়েও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় স্কোর গড়েছে। তাইতো লঙ্কানরা হেরেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষেও হারল। শ্রীলঙ্কা শুরুতেই বিপদে পড়ে যায়। যখন ৪৩ রানের মধ্যে কুশল পেরেরা ও উপুল থারাঙ্গা আউট হয়ে যান। শ্রীলঙ্কার যেন হারের রাস্তা তৈরি হয়ে যায়। আবার ইনজুরির জন্য ম্যাচটিতে খেলতে পারেননি অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। যাকে হুমকি মনে করা হয়েছিল, সেই কুশলকে শুরুতেই সাজঘরে ফিরিয়ে দেন নাসির হোসেন। বাংলাদেশের ইনিংসের বোলিংয়ের শুরুটাও করেন নাসিরই। প্রথম উইকেটটিও নাসিরের দখলেই যায়। এরপর মাশরাফি ফিরিয়ে দেন থারাঙ্গাকে। ৬২ রান হতেই যখন কুশল মেন্ডিসকেও সাজঘরে ফেরান মাশরাফি ম্যাচ তখন পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। মুস্তাফিজুর রহমান বল করতে এসে নিরোশান ডিকভেলাকে বোল্ড করে দেন। ৮৫ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারাতেই পড়ে থাকে শ্রীলঙ্কা। দিনেশ চান্দিমালকে নিয়ে ভরসা করা হয়। চান্দিমাল ব্যাটিংও করছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু ১০০ রান অতিক্রম করে যখন দলের ১০৬ রান হয় এমন সময় গিয়ে চান্দিমাল (২৮) রান আউট হয়ে যান। এরপর গুনারতেœকে দ্রুতই সাজঘরে ফেরান সাকিব। গুনারতেœকে আউট করার পরের বলেই হাসারাঙ্গাকেও আউট করে দেন। হ্যাটট্রিকের আশা জাগান সাকিব। কিন্তু হয়নি। হঠাৎ করেই থিসারা পেরেরা জ্বলে ওঠেন। সাকিবের ৪ বলে ২০ রান নিয়ে নেন। বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি হাঁকান। কিন্তু সেই সাকিব কী আর চুপ করে বসে থাকবেন। আউট করে দিলেন পেরেরাকেও (২৯)। এরপর লাকমাল ও ধনঞ্জয়াকে ১৫৭ রানের মধ্যে রুবেল আউট করলে শ্রীলঙ্কার ইনিংসও শেষ হয়। বাংলাদেশ বড় জয় পায়। ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬০ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেটি রানের দিক দিয়ে এতদিন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয় ছিল। শুক্রবার সেই জয়কেও পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা গত বছরে হারের গোলকধাঁধাতে পড়েছিল। নতুন বছরেও তাই হচ্ছে। অন্যদিকে গত বছরের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ নাস্তানাবুদ হলেও নতুন বছরে টানা দুই ম্যাচেই জয় মিলেছে। এই জয়গুলো সিরিজে বাংলাদেশকে ফাইনালেও নিয়ে গেল। ফাইনালে ওঠার পথে শুরুতেই তামিম-বিজয়ের ৭১ রানের জুটি, এরপর দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-সাকিবের ৯৯ রানের জুটি, তৃতীয় উইকেটে সাকিব-মুশফিকের ৫৭ রানের জুটি ও চতুর্থ উইকেটে মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর ৫০ রানের জুটিতে। ব্যক্তিগত স্কোর বড় করার সঙ্গে দলীয় স্কোরও বড় করেছেন ব্যাটসম্যানরা। তাতেই বিশাল স্কোর দাঁড়িয়ে গেছে। এই স্কোর নিয়ে বড় জয়ও পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে ফাইনালেও খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ।

No comments

Powered by Blogger.