প্রকাশ্যে প্রভার ব্যক্তিজীবনের স্টেটমেন্ট! আকুতি নাকি প্রচন্ড ক্ষোভ ?

সাদিয়া জাহান প্রভা। দেশের একজন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী। বলা হয়ে থাকে অভিনয় তার অস্থি মজ্জায়। সম সাময়িক সব অভিনেত্রীদের চেয়ে তার সাবলীল অভিনয় ও এক্সপ্রেশন মুগ্ধতা ছড়ায় অনেক বেশি। সেই মুগ্ধতাই সাদিয়া জাহান প্রভাকে দর্শকদের কাছে নন্দিত করেছে, নির্মাতাদের কাছে করেছে অনেক আস্থাভাজন অভিনেত্রী হিসেবে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন এবং সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের আগেই ‘ নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ফাঁস হওয়া ,  আরেকজন অভিনেতার সঙ্গে বিয়ে এবং তালাকের ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েননি। ফিরে এসেছেন অভিনয় জগতে।অভিনয়ের শক্তিশালী গুণটাই প্রভাকে সাহসী করতে পেরেছে জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায় সামলে নিতে। তিনি সেই সময়টাতে পাশে পেয়েছিলেন সিনিয়র-জুনিয়র সব শিল্পী, নির্মাতা ও প্রযোজকদের। বিশেষ করে নারী শিল্পীরা পাশে ছিলেন প্রভার, ভালোবাসা নিয়েই। তাই আবারও নতুন উদ্যমে শুরু করতে পেরেছেন। আর সেই শুরুটা দুর্দান্তই।

তার প্রমাণ পাওয়া যায় দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রভার খন্ড নাটকের আধিপত্য দেখলে। জাহিদ হাসান, রিয়াজ, চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিমের মতো প্রথম সারির অভিনেতাদের বিপরীতে তিনি হাজির হচ্ছেন বৈচিত্রময় চরিত্রে। মুগ্ধ করছেন ছোট পর্দার দর্শক।
তবে মাঝখানে কিছুদিন বিরতি দিয়ে ফের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে , ‘ফের অস্থির-বিশৃঙ্খল লাইফস্টাইলে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছেন প্রভা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকছেন বেশিরভাগ সময়। ‘ কেউ কেউ দাবি করছিলেন, প্রভা আজকাল মাদকও গ্রহণ করছেন। সম্প্রতি এমনি  বেশ কিছু গুজব ছড়িয়েছে প্রভাকে নিয়ে ।

তবে এইসব গুজব-সমালোচনার বিপরীতে প্রভা নিজেই মুখ খুললেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রভা শনিবার নিজের ফেসবুকে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি সাদিয়া জাহান প্রভা। জীবনে কোনোদিন মাদক সেবন করি নাই। টাকা বা কাজের বিনিময়ে কারো সাথে রাত কাটাই নাই। সজ্ঞানে কোনোদিন কারো ক্ষতি করি নাই। একটা সুশিক্ষিত পরিবারের সন্তান আমি। জীবনে অনেক বড় বড় পরীক্ষা দিয়েছি কিন্ত হার মানিনি। কারণ আমি নির্দোষ তাই। ‘

প্রভা বলেন, ‘আমাকে নিয়ে ভ্রান্তধারণাগুলো বন্ধ করুন। খুবই সাধারণ জীবন আমার। আজকে অনেক অসহায় হয়ে আমার নিজের জীবনের স্টেটমেন্ট দিলাম। বাঁচতে দিন আমাকে। ‘

এর আগে ২৭ ডিসেম্বর প্রভা আরো একটি স্ট্যাটাসে বেশকিছু কথা লিখেছেন। যা থেকে বোঝা যায় তিনি মানসিক পীড়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রভা বলেন, একটা পছন্দের বস্তু অনেকদিন নাড়াচাড়া না করলে যে রকম ধুলো জমে যায়, অভিমান হলো সেই ধুলোকণা। ঠিকমত যত্ন না নিলে সেখানে ধুলো তো জমবেই। যখনই জমতে শুরু করবে সাথে সাথে মুছে ফেলতে হয়।

এই ধুলোগুলো বাড়তে শুরু করলে তখন সেটা অভিমান থেকে অভিযোগ হয়ে যায়। অভিযোগের ভেতরে এক ধরনের জবাবদিহিতা থাকে, সূক্ষ্ম একটা প্রতিরোধ থাকে।

জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বলেন, অভিযোগ যখন ন্যায়বিচার পায় না তখনই জন্ম হয় রাগের। যে রাগের বহিঃপ্রকাশ আছে সেই রাগ কমে যায় আর যে রাগের কোনো বহিঃপ্রকাশ নেই; ভেতরে ভেতরে জমতে শুরু করে- সেই রাগ থেকে জন্ম হয় ক্রোধের।

ক্রোধ খুব সাংঘাতিক জিনিস। একজন রাগান্বিত মানুষ যদি আপনাকে খুন করে ফেলে তখন সেটা সে রাগের মাথাতেই করে কিন্তু একজন ক্রোধে আক্রান্ত কেউ যদি আপনাকে খুন করে- তখন সেটা সে ঠাণ্ডা মাথায় করে।

তিনি বলেন, আপনার ওপর কারো একবার ক্রোধ জন্ম নিয়ে ফেললে সেটা কেবল ঘৃণাই জন্ম দেবে; অন্য কিছু না। সব কিছুরই দুটো দিক থাকে; সুন্দর এবং অসুন্দর। অভিমান থেকে জন্ম নেওয়া ঘৃণা হচ্ছে সুন্দর ঘৃণা! এই যে রাগ, অভিযোগ এসবই তো ভালোবাসার উপাদান। ক্রোধের আগুনে না পুড়লে সেটা কখনো ঘৃণা হতো না।

Comments