বৈশ্বিক পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ছোট ছোট বিজয় লাভ করছে। এসব সংগ্রামকে একত্র করা গেলে বৈশ্বিক পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব। পুঁজিবাদ থেকে মুক্তি পেতে বিশ্বের সব বাম শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বৈশ্বিকভাবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক আন্দোলন।

ঢাকায় গতকাল শনিবার দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাম দলের এক সম্মেলনের সমাপনী দিনে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। রাজধানীর হোটেল অবকাশে ‘এশিয়ান অ্যাসেম্বলি অব পিপলস মুভমেন্ট অ্যান্ড অর্গানাইজেশন’ শীর্ষক দুই দিনের এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি। সম্মেলনে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের বাম নেতারা অংশ নেন।

গতকাল সকালে ‘জীবিকা ও গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের সংগ্রাম’ শীর্ষক প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অ্যানি রাজা।

আলোচনায় ভারতের ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব পিপলস মুভমেন্টের প্রফুল্ল সামন্তারা বলেন, শিল্পায়ন করতে গিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ, আদিবাসীদের জমি ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হলে, পুঁজিবাদের বিস্তার রোধ করতে হলে সব বাম শক্তির মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

তৃতীয় বিশ্বের শ্রমের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের সদস্য মাইকেল জয়কুমার দেবরাজ।

ভারতের অরুণা রায় বলেন, ভারতে নিম্নতম মজুরি বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বেকারত্ব বড় সমস্যা। সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

দ্বিতীয় অধিবেশন

‘একবিংশ শতাব্দীতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সিস্ট) এম এ বেবি।

তাতে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি রমেশ বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে নেপাল সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নেপালের সমাজতান্ত্রিক দল তৃণমূল থেকে আলোচ্যসূচি নিচ্ছে, জনগণের দাবি অনুযায়ী পরিকল্পনা করছে। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা একবিংশ শতাব্দীর সমাজতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

একবিংশ শতাব্দীতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে বলে মনে করেন ভারতীয় লেখক বিজয় প্রসাদ।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য সুশান্ত কুমার দাস বলেন, একবিংশ শতাব্দীর পুঁজিবাদ থেকে উৎসারিত বৈশ্বিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমাজতান্ত্রিক দলগুলোকে একত্রে লড়তে হবে।

এই অধিবেশনে ব্রাজিলের ভূমিহীন প্রান্তিক শ্রমিকদের সংগঠন এমএসটির মার্কো ফার্নান্দেজ ও নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।

ঢাকা ঘোষণা

দিনের শেষ অধিবেশনে ‘ঢাকা ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে শেষ হয় সম্মেলন। শেষ অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলী ছিলেন মালিনী ভট্টাচার্য, এনামুল হক, প্রমেশ পোখরেল, অমিত সেনগুপ্ত।

ঢাকা ঘোষণায় বলা হয়, দুনিয়াজুড়ে পুঁজিবাদ সংকটে পড়েছে। পুঁজিবাদ
তার আধিপত্য ধরে রাখতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে চাপ দিচ্ছে। এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে লোকজনের জীবিকা ধ্বংস করছে। বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করছে, যা অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক ও মানবিক সংকট বাড়াচ্ছে।

ঘোষণায় বলা হয়, স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন চলছে, তবে বৈশ্বিকভাবে জনগণকে সংগঠিত করতে একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন প্রয়োজন। এশিয়া অঞ্চলের আন্দোলনগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনা গেলে একে অপরের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাম নেতারা মনে করেন, এই সম্মেলনের আলোচনা ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ অনুষ্ঠেয় বাম দলগুলোর পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে।

Comments