জীবনের শেষ সময়ে ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান চান রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

 নিভৃতচারী এক ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বয়সের ভারে ন্যজ্যু হয়ে পড়ে চলাচলের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। জীবনের শেষ সময়টা এখন তার কাটছে বদ্ধ ঘরে। বিছানায় শুয়ে শুয়েই কেটে যায় দিন রাতের পুরো সময়। প্রানচ্ছল ভঙ্গিতে নাতিদের সাথে তিনি আর সময় কাটাতে পাড়েন না। বিছানাই যেন তার একমাত্র সঙ্গী। ভাষা সৈনিক হিসেবে কয়েক বছর আগে তাকে সম্মাননা জানায় ভেড়ামারা ব্যবসায়ী বনিক সমিতি। জীবনের শেষ সময়ে এসেও এখনো জুটেনি রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি। ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমানের একমাত্র পুত্র রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, বাবা ভাষা সৈনিক, এটা তাদের গর্বের বিষয়। বাবার শেষ ইচ্ছা ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের মেধাবী মুখ খলিলুর রহমান। ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা জগন্নাথ কলেজে বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলনে যখন ঢাকার রাজপথ উত্তপ্ত তখন তিনি জড়িয়ে পড়েন ভাষা আন্দোলনে। মিছিলে মিছিলে শ্লোগানে তারও কণ্ঠে ধ্বনি প্রতিধ্বনি হতো রাষ্ট ভাষা বাংলা চাই। তখন তিনি নিয়মিত মিছিল, মিটিং এ অংশগ্রহণ করতেন। তৎকালীন সময়ে জগন্নাথ কলেজের একটি ইউনিটের ছাত্রনেতা হিসেবে মিছিল মিটিং এর নেতৃত্ব দিতেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা কার্জন হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলে পুলিশ যখন বৃষ্টির মতো গুলী চালাতে ছিল তখন তিনি ছিলেন মিছিলের অগ্রভাগে। পুলিশের গুলীতে ভাষা শহীদরা গুলীবিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়ার সে মিছিলেও তিনি ছিলেন অগ্রভাগে। তার চোখের সামনেই গুলীবিদ্ধ হন সহপাঠীরা। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে যান। পরদিন ২২শে ফেব্রুয়ারি মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় গায়েবানা জানাযায় তিনি অংশগ্রহণ করেন। বয়সের ভারে নুয্য খলিলুর রহমান সে সময়ের সহগামী, সতীর্থদের নাম স্মরণে আনতে না পারলেও স্মৃতিপটে ভাসে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সেই দিনটির কথা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর তিনি নিজেকে দীর্ঘ ৬০ বছর লুকিয়ে রেখেছিলেন। কখনই বলেননি তিনি একজন ভাষা সৈনিক। ২০১৩ সালে প্রথম জাতীয় পত্রিকাসহ স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয় ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমানের নাম। এরপর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় তাকে নিয়ে সংবাদ প্রচার করে। দাবি ওঠে তাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে এসে এখনো জুটেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ইতোমধ্যে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মাননা জানিয়েছে ভেড়ামারার ব্যবসায়ী বনিক সমিতি।

ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান’র পুত্র রুহুল কুদ্দুস আবেগজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার বাবা বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রাম করেছে। তিনি একজন ভাষা সৈনিক। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর মূল্যয়ন করবে। ভাষা সৈনিক হিসেবে তার বাবার নাম সংযোজিত হবে। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সমৃদ্ধি হবে।


Comments