Header Ads

বয়স তো শুধুই একটা সংখ্যা ॥ রজার ফেদেরার

উড়ছেন ফেদেরার। ক্যারিয়ারের গোধূলিবেলাতেও প্রতিপক্ষের আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছেন তিনি। রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও দেখা গেল বুড়ো ফেদেরারের চমক। দুর্দান্ত খেলেই মারিন চিলিচকে গুড়িয়ে দিলেন ফেড এক্সপ্রেস। জিতলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ষষ্ঠ শিরোপা। সেইসঙ্গে ক্যারিয়ারের ২০তম মেজর টুর্নামেন্ট জয়েরও স্বাদ পেলেন সুইজারল্যান্ডের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। মেলবোর্নে ক্রোয়েশিয়ান তারকা মারিন চিলিচের বিপক্ষে পাঁচ সেটের কঠিন লড়াই জিতেই অবিস্মরণীয় এই কীর্তি গড়েন রজার ফেদেরার। অথচ, বয়সে ছত্রিশকেও ছাড়িয়ে গেছেন বর্তমান বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফেদেরার। এ বয়সেও কোর্টে দারুণ লড়াই করছেন তিনি। গত ১২ মাসে তিন গ্র্যান্ডসøাম জয়ের তথ্যটাই তো তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নতুন গুঞ্জন। কেউ কেউ তো বলছেন এই বুঝি অবসর নিতে চলেছেন ফেড এক্সপ্রেস ...। তবে ফেদেরার এখনও দুর্বার। এখানেই থেমে যেতে নারাজ বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এই নাম্বার ওয়ান। তবে কোথায় গিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন সুইস তারকা? সেটাও নাকি জানেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোন ধারণা নেই। সত্যি বলতে কি, এটা আমি নিজেও জানি না।’ গত বছর দুটি গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছিলেন ফেদেরার। ২০১২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই প্রথমবারের মতো মেজর টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পান তিনি। গতবারের ক্ল্যাসিক ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ছিল রাফায়েল নাদাল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদালকে হারিয়েই স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিতটা দিয়েছিলেন তিনি। রবিবার চিলিচকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলেন ফেদেরার। আর সব মিলিয়ে ক্যাঙ্গারুর দেশে তার জয়ের সংখ্যা ছয়। মারিন চিলিচের মতো তরুণকে হারানোর পথে মাত্র একটি সেটে পয়েন্ট হারান তিনি। মেলবোর্নের প্রিয় কোর্টে শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসার পরই ফেদেরার জানান তিনি এখনও ক্ষুধার্ত। এ বিষয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১২ মাসে তিনটি গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছি, এটা আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারি না। আমি শুধু সিডিউলটা ভাল মতো রেখেছি। সঙ্গে জয়ের ক্ষুধাটা। সেইসঙ্গে বিশ্বাস রেখেছি হয়ত ভাল কিছু ঘটতে পারে।’ আগামী আগস্টে ৩৭তম জন্মদিনের কেক কাটবেন ফেদেরার। কিন্তু তা নিয়ে মোটেও ভাবছেন না তিনি। বরং বরাবরের মতো এদিনও সাফ জানিয়ে দিলেন বয়সটা তার কাছে শুধুই একটা সংখ্যা। এ বিষয়ে ফেদেরার বলেন, ‘আমি মনে করি না বয়সটা কোন ইস্যু, এটা মাত্র একটা সংখ্যাই। কিন্তু নিজের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সত্যিই আমার লক্ষ্য কি, আমার অগ্রাধিকার কি, আমি কি চাই, তা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি মনে করি যে, কীভাবে সফল হব তা সঠিকভাবেই নির্ধারণ করে যাচ্ছি।’ ফেদেরারের চেয়ে বেশি বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল খেলেছেন কেবল একজন। ১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ারই কেন রোসেল খেলেছিলেন ৩৭ বছর বয়সে। সেবার রোসেলের প্রতিপক্ষ ছিলেন তার স্বদেশী ম্যাল এ্যান্ডারসন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা নিজের শোকেসে তুললেও র‌্যাঙ্কিংয়ে কোন অগ্রগতি হচ্ছে না তার। বরং দ্বিতীয় স্থানেই থাকছেন সুইস কিংবদন্তি। শীর্ষে যথারীতি তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাফায়েল নাদাল। মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট কাটার ফলে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল নাদালই থাকছেন এক নাম্বারে। ফেদেরারের মতো স্প্যানিশ তারকাও স্বরূপে ফেরেন গত বছরের একই সময়ে। তিনিও ফেড এক্সপ্রেসের মতো দুটি করে গ্র্যান্ডস্লাম ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন। কিন্তু ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শেষ আট থেকেই ছিটকে যান তিনি। এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফেদেরারের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হওয়া চিলিচের অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই। ছয় থেকে তিন ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ইউএস ওপেনের সাবেক এই চ্যাম্পিয়ন।

No comments

Powered by Blogger.