Header Ads

আইন অধিকার বিয়েটি যখন বিশেষ

দুটি আলাদা ধর্মের ছেলে-মেয়ে যদি বিয়ে করতে চান, তাহলে কি সেটির কোনো সুযোগ রয়েছে? আছে কি কোনো বিধিবিধান?

এর উত্তর হচ্ছে, দেশে এ-সংক্রান্ত একটি আইন রয়েছে। এ আইনের নাম বিশেষ বিবাহ আইন ১৮৭২। এ আইনের অধীনে বিয়ে সম্পন্ন করানোর জন্য এবং নিবন্ধনের জন্য সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত নিবন্ধক বা রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা আছে।

বিশেষ বিয়ের নিয়ম

বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে বিয়ে করতে হলে আইন অনুযায়ী সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এই আইনে বিয়ে করতে হলে দুই পক্ষকেই আইনের তফসিলে প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের ঘোষণা দিতে হবে।

তফসিলে দেওয়া নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী হলফনামা না করে নিজেদের মতো করে কোনো হলফনামা সম্পন্ন করা যাবে না। বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে করতে হলে ছেলে ও মেয়েকে অবিবাহিত থাকতে হবে। ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। প্রথমে বিশেষ বিবাহ নিবন্ধকের কাছে গিয়ে যেকোনো এক পক্ষ অপর পক্ষের কাছে বিয়ের জন্য লিখিত নোটিশ পাঠাবে। নিয়ম হচ্ছে, এ নোটিশ দেওয়ার ১৪ দিন পর বিয়ে সম্পাদন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এক পক্ষ নিবন্ধকের মাধ্যমে বিয়ের ১৪ দিন আগে অপর পক্ষকে নির্ধারিত আকারে নোটিশ না পাঠালে বিয়ে সম্পন্ন করা যাবে না। এ নোটিশ নিয়ে কোনো প্রকার লুকোচুরি করা যাবে না। বিয়ের সময় অন্তত তিনজন সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে। পাত্রপাত্রী সশরীরে উপস্থিত থেকে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। বিয়েটি অবশ্যই বিশেষ বিবাহ নিবন্ধক বা রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করতে হবে।

বিয়ে সম্পন্ন হলে নিবন্ধক তা সরকারি ভলিউমে নিবন্ধন করবেন এবং একটি বিয়ের নিবন্ধনপত্র প্রদান করবেন। দেশে বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক এই বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের জন্য রেজিস্ট্রার বা নিবন্ধক নিয়োগ করা আছে।

বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার কীভাবে নির্ধারিত হয়?

বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে হলে স্বামী বা স্ত্রী চাইলেই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারবেন না। এ আইন অনুযায়ী কোনো পক্ষ বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে চাইলে তাকে ১৮৬৯ সালের খ্রিষ্টানদের ডিভোর্স অ্যাক্ট অনুযায়ী এই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। এর জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আদালতের অনুমতিক্রমে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। অন্যথায় বিবাহবিচ্ছেদের নামে একটি হলফনামা পাঠিয়ে দিলেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাবে, সেটি বলা যাবে না।

আদালতের অনুমতি ছাড়া বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন করতে চাইলে অপর পক্ষ তা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে। এই আইনে যাঁরা বিয়ে করবেন, তাঁদের এবং তাঁদের সন্তানদের সম্পত্তি সাকসেশন অ্যাক্ট, ১৯২৫ অনুযায়ী (খ্রিষ্টানদের উত্তরাধিকার অনুযায়ী) ভাগ করা হবে।

বিয়ে নিয়ে বিরোধ

এ আইনের অধীন বিয়ে-সংক্রান্ত এবং বিয়ের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে দেওয়ানি আদালতে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে। এ ছাড়া কেউ যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেন কিংবা বিয়ে নিয়ে প্রতারণা করেন, তাহলে সে ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে। যৌতুক কিংবা বিয়ে-সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের অপরাধবিষয়ক আইন অন্যদের ক্ষেত্রে যেভাবে প্রয়োগ হবে, বিশেষ বিয়ের দম্পতির ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

No comments

Powered by Blogger.