আমৃত্যু বেনজেমাকে সমর্থনের ঘোষণা জিদানের

বেশ কিছুদিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন করিম বেনজেমা। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের প্রধান ফরোয়ার্ড এই মৌসুমের ১৬ ম্যাচে গোল পেয়েছেন মোটে ৪টি। এর দুটি গোল লা লিগায়, অপর দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগে। তারপরও কোচ জিনেদিন জিদানের অকুণ্ঠ সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। বেনজেমার প্রতি জিদানের আস্থা এতটাই যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নাকি তিনি তাঁর স্বদেশিকে সমর্থন দিয়ে যাবেন।

আজ রাতে গ্রেমিওর বিপক্ষে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। তার আগে ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনেও গ্রেমিওকে ছেড়ে বেনজেমা-সংক্রান্ত সমালোচনার জবাব দিতে হলো জিদানকে। এতে বেশ বিরক্তই হয়েছেন রিয়ালের কোচ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘করিম অন্য জাতের খেলোয়াড়। সে হয়তো মৌসুমে ৫০ গোল করবে না, কিন্তু তার অন্য গুণাবলি রয়েছে, যা দলগত খেলায় মূল্যবান বলে মনে করি আমি। আমি বেনজেমাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সমর্থন করে যাব।’

এই তো কিছুদিন আগেই সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড গ্যারি লিনেকার খোঁচা দিয়েছিলেন বেনজেমাকে। লা লিগার শুরু থেকেই ফরোয়ার্ডদের গোলখরা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে জিদানকে। রিয়াল ছেড়ে যাওয়া দুই ফরোয়ার্ড মারিয়ানো দিয়াজ ও আলভারো মোরাতা যাঁর যাঁর লিগে গোলের ফোয়ারা ছোটানোয় বিপাকেই পড়েছেন জিদান। এরপরও সমালোচনা গায়ে মাখছেন না জিদান, ‘আমি এসব সমালোচনায় বিশ্বাস করি না। আমি তো তার কাছ থেকে শুধু গোল চাই না। সে দলের জন্য যা করে, আমি তাকে গুরুত্ব দিই। এ ক্ষেত্রে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা।’

এ মৌসুমে এর মধ্যে ৪টি গোলে সহায়তা করেছেন বেনজেমা। জিদানের ইঙ্গিতটা সেদিকেই। কিন্তু দলের প্রধান ফরোয়ার্ডের মূল কাজটা যে গোল করাই। গোল করানোয় বেনজেমা সেরা হতেই পারেন, কিন্তু তার প্রধান কাজটা করার জন্য যে এবার আর কাউকেই খুঁজে পাচ্ছে না রিয়াল। লা লিগায় শিরোপা দৌড়ে এরই মধ্যে পিছিয়ে পড়ার কারণও সেটিই। এ যেন অনেকটা পাবলিক পরীক্ষার মূল বিষয়ে ফেল করে ঐচ্ছিক বিষয়ে ‘এ প্লাস’ পাওয়ার মতো ব্যাপার।

গ্রেমিওর বিপক্ষে খেলার উন্নতি করতে হবে বলেও জানিয়েছেন জিদান। আল-জাজিরার বিপক্ষে কষ্ট করে জিততে হয়েছে রিয়ালকে। এদিকে গ্রেমিও কোচ রেনাতো গাউচো নিজেকে রোনালদোর চেয়ে ভালো খেলোয়াড় দাবি করে বসেছেন। সে কথাও গায়ে মাখছেন না জিদান, ‘নিজেকে ভালো খেলোয়াড় সবাই বলতে পারে। আমি তা মানি না, আমার কাছে ক্রিস্টিয়ানোই সেরা।

Comments