ত্রিপুরায় দুর্গ রক্ষায় মরিয়া বামেরা

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বাম দুর্গ রক্ষায় মরিয়া সিপিএম। বিজেপির গুজরাট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার ত্রিপুরা বামফ্রন্ট জানিয়ে দিল, আগামী ৩১ মার্চ তারা নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করছে। রাজ্য বামফ্রন্টের ডাকে সেদিন আগরতলা বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে হবে রাজ্যস্তরের জনসভা। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। থাকতে পারেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও।

গতকাল আগরতলায় সিপিএমের সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছিল ত্রিপুরা রাজ্য বামফ্রন্ট। এই সম্মেলনে রাজ্য বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তথা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর জানান, ৩১ ডিসেম্বর রাজ্যস্তরের সভা দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। তবে দলগতভাবে সিপিএম এবং বিভিন্ন শরিক দল ও তাদের শাখা সংগঠন ভোটের প্রচার চালিয়ে যাবে।

৩১ ডিসেম্বরের সভাকে ঐতিহাসিক রূপ দিতে এখন থেকেই প্রচার শুরু করবে বিভিন্ন বামপন্থী গণসংগঠন। প্রচারে মূল বিষয় থাকছে রাজ্যে অষ্টমবারের মতো বামফ্রন্ট সরকারের প্রতিষ্ঠা। বিজন ধরের মতে, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থেই প্রত্যাবর্তন জরুরি। তিনি জানান, মানুষরে কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে ভোটের প্রচারকে এবারও গুরুত্ব দিচ্ছে বামেরা। তিনি জানান, রাজ্যস্তরের সভার পর জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক সভাও করবে বামফ্রন্ট। প্রচারে রাজ্য নেতাদের পাশাপাশি দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব যেমন অংশ নেবেন, তেমনি পশ্চিমবঙ্গের বাম নেতারাও প্রচারে আসবেন বলে তিনি জানান।

পাশাপাশি কংগ্রেসের তরফেও শিগগিরই ভোটের প্রচারে নামার কথা জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিত সিনহা। তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাহুল গান্ধী দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর কংগ্রেস এখন অনেক চাঙা। এ মাসেই উপজাতিদের নিয়ে রাজভবন অভিযান দিয়ে কংগ্রেস ভোটের প্রচার শুরু করবে বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, বিজেপির জাতীয় নেতারা এখনো তাকিয়ে গুজরাটের দিকে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব সম্প্রতি আগরতলায় সাংবাদিকদের জানান, গুজরাটের ভোটপর্ব না মিটলে ত্রিপুরায় প্রচারের বেগ আসবে না। ত্রিপুরায় আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে বিজেপির রাজ্য নেতারা রাষ্ট্রপতি শাসনের মাধ্যমে পরে ভোট করার পক্ষপাতী। সিপিএম ও কংগ্রেস উভয়েই বিজেপির রাষ্ট্রপতি শাসন জারির বিরোধী।

Comments