মান্না, আলাল আর জায়েদের গল্প

ছোটবেলা থেকেই সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার নেশা অভিনয়শিল্পী জায়েদ খানের। নিজ জেলা পিরোজপুরে ‘তরঙ্গ শিশু কিশোর’ নামে একটি সংগঠনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সাংগঠনিক কাজে হাতে খড়ি তাঁর। কে জানে সেই দক্ষতাই তাঁকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির মতো সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন করেছে কি না। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ভেতরে এই সংগঠন আলাদা করে নজরে পড়ে। বলা হয়ে থাকে, সংগঠনটির অফিস নতুন প্রাণ পেয়েছে তাঁর হাতে। তবে এসব নিয়ে কথা উঠতেই বললেন, ‘সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেই তাঁর ভালো লাগা, ভালোবাসা। সেই জায়গা থেকেই আজ শিল্প সমিতিতে থেকে চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি।’

তবে আমাদের আলোচনার বিষয় এসব নয়। আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে জায়েদ খান অভিনীত অন্তর জ্বালা ছবি। মুক্তির আগেই মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির ট্রেলার, গান নিয়ে চলচ্চিত্রপাড়ায় বেশ আলোচনা চলছে। ট্রেলার ও গানে কয়েক ঝলক দেখা গেছে তাঁকে। কথা হবে সেসব নিয়ে। বলে রাখা ভালো, ছবিটির প্রযোজকও তিনি।

গত মঙ্গলবার বিকেলে এফডিসির শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে পাওয়া গেল তাঁকে। শুরুতেই তাঁর কাছে জানতে চাইলাম—অন্তর জ্বালা নিয়ে এত আলোচনার কারণ কী আছে ছবিতে?

বললেন, ঢাকার চলচ্চিত্রে অনেকগুলো ব্যবসা সফল ছবি উপহার দিয়েছেন স্বনামধন্য পরিচালক মালেক আফসারি। দুই বছর বিরতি নিয়ে নতুন ছবি নির্মাণ করলেন তিনি। ছবির অনেকাংশেই আছে জনপ্রিয় প্রয়াত নায়ক মান্নার গল্প। শুটিংয়ে কোনো কৃত্রিম সেট ব্যবহার করা হয়নি। পিরোজপুর শহর, শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত টানা ১২০ দিন ধরে শুটিং হয়েছে। ছবিটি নির্মাণে সময়, বাজেট—কোনো কিছুতেই আপস করা হয়নি।

নায়ক মান্নার ভক্ত এক যুবককে ঘিরে এগিয়েছে ছবির গল্প। যুবকের নাম আলাল। মান্নার ছবি সিনেমা হলে উঠলেই ছবি দেখা চাই-ই চাই আলালের। শুধু মান্নার সিনেমা দেখার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে সিনেমা হলে চাকরি নেয় আলাল। সেই আলাল চরিত্রেই অভিনয় করেছেন জায়েদ খান।

কথা এগোতে থাকে আমাদের। বড় পর্দার এই অভিনেতা বলেন, ‘অন্তর জ্বালায় নায়ক নয়, একজন অভিনেতা হিসেবে পরিচালক উপস্থাপন করেছেন আমাকে। পর্দায় না দেখলে বোঝা যাবে না ব্যাপারটি। আমাকে আমূল বদলে দিয়েছেন তিনি।’

জায়েদ খানের কথা, ‘ছবির কোনো কোনো জায়গায় অভিনয় করতে গিয়ে আপনা-আপনি কেঁদেছি। আমার বিশ্বাস, ছবিটি দেখে দর্শকও কাঁদতে কাঁদতে হল থেকে বেরোবেন। জায়েদ খানকে নয়, আলালের কথাই দর্শকের মাথায় ঘুরপাক খাবে।’

এমন চরিত্রের জন্য বেশ প্রস্তুতি নিতে হয়েছে তাঁকে। জানালেন সেই গল্পও। শুটিংয়ের আগে চরিত্রটির জন্য প্রস্তুত হতে টানা তিন মাস সময় নিয়েছেন তিনি। পরিচালকের পরামর্শে তিন মাস চুল, দাঁড়ি কাটেননি। মেকআপ দিয়ে নয়, ১৫ দিন তেল মেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে গায়ের রং কালো করেছেন।

সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে বললেন, ‘শুটিংয়ের ১২০ দিন আমি আমার মধ্যে ছিলাম না। কী পরিমাণ যে কষ্ট করে কাজটি করেছি, বোঝানো যাবে না।’

এদিকে কথার মাঝেই নায়কের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জেড কে মুভিজের এক কর্মকর্তা এসে বলেন, এরই মধ্যে ১৫৭টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির বুকিং হয়েছে।

ওই কর্মকর্তার খবর ধরে জায়েদ খান বললেন, ‘অন্তর জ্বালা ঈদ উৎসবের মতো আমেজ ছড়িয়েছে। সারা বছর বন্ধ থাকা কিছু প্রেক্ষাগৃহ ঈদের সময় খুলে দেওয়া হয়। অন্তর জ্বালা ছবির জন্য সাতটি বন্ধ প্রেক্ষাগৃহ খুলেছেন মালিকেরা। আশা করছি মুক্তির আগে আরও কিছু প্রেক্ষাগৃহ পাব।’

প্রযোজক হিসেবে প্রথম ছবি, নিজের অভিনয়ে ভিন্নতা—সব মিলে ছবিটি নিয়ে দারুণ প্রত্যাশা জায়েদ খানের। এই নায়ক বলেন, ‘নিজের চরিত্রটি তুলে আনতে টানা তিন মাস রোদে পুড়ে, কাঁদা-পানি মেখে কষ্ট করেছি। একটি ভালো ছবি তৈরির জন্য প্রযোজক হিসেবে বাজেটের দিকে না তাকিয়ে ২ কোটি টাকার ওপরে খরচ করেছি। দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করবেই এই ছবি।’

কথায় কথায় সময় গড়ায়। ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে জায়েদ খান বলেন, একটি চ্যানেলের সরাসরি অনুষ্ঠানে ছবিটি নিয়ে কথা বলতে এখনই রওনা হতে হবে।

Comments