ফেরিতে চলে জুয়া



দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথের ফেরিতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রায়ই পুলিশ টহল দেয় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সুযোগে একটি চক্র প্রায়ই ফেরিতে জুয়ার আসর বসায়। তা ছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে প্রায়ই।

গত ২৮ নভেম্বর রাতে একটি ফেরি থেকে দুই জুয়াড়িকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌপুলিশের বিরুদ্ধে। তবে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৬-১৭টি ফেরি চলাচল করে। নিরাপত্তার জন্য দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়ায় স্থাপন করা হয়েছে নৌ থানা ও ফাঁড়ি। কিন্তু পুলিশের তেমন তৎপরতা নেই। এ কারণে প্রায়ই জুয়াড়ি ও ছিনতাইকারীরা ফেরিতে অপরাধ সংঘটিত করে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরিতে এক মাসে চার-পাঁচটি জুয়ার আসর বসানোর খবর পেয়েছি। এ নিয়ে কেউ কিছু বললে নাজেহাল হতে হয়। যে কারণে ভয়ে ফেরির কর্মচারীরা অভিযোগ করেন না। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারপরও ফেরিতে পুলিশ থাকে না।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ইউলিটি ফেরি রজনীগন্ধা মাঝনদীতে পৌঁছার পর জুয়াড়িরা ‘তিন তাসের’ জুয়ার আসর বসায়। ফেরিটি দৌলতদিয়া ঘাটে ভেড়ানোর পর নৌপুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে। তাঁরা হলেন উত্তর দৌলতদিয়ার উম্বার কাজীপাড়ার লতিফ কাজী ও বলাই সরদার। অভিযোগ পাওয়া গেছে, নৌপুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মমিন উদ্দিন ফাঁড়িতে আনার পর তাঁদের সঙ্গে সমঝোতা করে ছেড়ে দেন। তা ছাড়া অভিযান চালানোর সময় আরও দুই জুয়াড়ি নদীতে লাফ দিয়ে পড়ে পালিয়ে যান।

তবে সমঝোতার অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই মমিন বলেন, তাঁদের কাছে কিছু পাওয়া যায়নি। জুয়া খেলার কথা তাঁরা স্বীকারও করেননি। তাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ৫ নভেম্বর সকাল নয়টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে ২২টি গাড়ি নিয়ে দৌলতদিয়া আসার সময় ভাষাসৈনিক ডা. গোলাম মাওলা ফেরিতে একদল জুয়াড়ি তিন তাসের আসর বসান। প্রলুব্ধ হয়ে রাজবাড়ী শহরের কলেজপড়ুয়া এক তরুণ জুয়া খেলায় অংশ নেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আরেক যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিলে যাত্রীরা সংঘবদ্ধ হয়ে লতিফ কাজী ও তাঁর সহযোগী ভুট্টো মির্জাকে আটক করেন। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে এসে লতিফ আবারও জুয়ার আসর বসাচ্ছেন।

গোলাম মাওলা ফেরির ভারপ্রাপ্ত মাস্টার শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের টহল না থাকায় কিছুদিন ধরে ফেরিতে প্রায়ই জুয়ার আসর বসছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মাস্টার বলেন, কোনো ভিআইপি যাতায়াতের সময় ফেরিতে পুলিশ ওঠে, তা না হলে ওঠে না। সুযোগ বুঝে চিহ্নিত একটি চক্র জুয়ার আসর বসায়। তা ছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। অনেক সময় তাঁদের চোখের সামনে এসব ঘটনা ঘটলেও তাঁরা প্রতিবাদ করার সাহস পান না। বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন। তাঁরা আরও বলেন, সম্প্রতি বনলতা নামের ফেরিতে কিছু যুবক উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। তখন তাঁদের বারণ করলে ফেরির চালককে বেদম মারধর করা হয়।

পাটুরিয়া নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনিসহ থানায় ১৫ জন সদস্য রয়েছেন। প্রতি রাতে পুলিশের একটি দল ফেরিতে থাকে।

Comments