Header Ads

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কুকুরের অবাধ বিচরণ!

মঙ্গলবার বেলা ১১টা। হাসপাতালের শিশু বিভাগের ডায়রিয়া ওয়ার্ড। ফটকের পাশেই খোলা জায়গায় মল ত্যাগ করছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মল। আর সেসব মল মুখে নিয়ে কুকুর ঢুকে পড়ছে ওয়ার্ডে। কুকুরের এমন অবাধ বিচরণ দেখা যায় ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। হাসপাতালটিতে এমন পরিবেশে চিকিৎসা চলছে দীর্ঘদিন থেকে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের ওয়ার্ডে সব সময় কুকুর ঘুরে বেড়ালেও সেভাবে চিকিৎসকের দেখা মেলে না। সরেজমিনে শিশু ওয়ার্ড ও ওয়ার্ডের সামনে দেখা যায়, আশপাশে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের মল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মলের পাশে ঘোরাফেরা করছে কুকুর। মাছি ভনভন করছে। ওয়ার্ডের ভেতরে জায়গা না থাকায় মল উপেক্ষা করে সামনের জায়গাটিই বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন রোগীর স্বজনেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক বলেন, সারা দিন কুকুরের দল ওয়ার্ডের ভেতরে দৌড়াদৌড়ি করে। রাতের বেলায় কুকুরগুলো বিছানার নিচে আশ্রয় নেয়। তাঁর ভাইয়ের মেয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। নাম জানাজানি হলে চিকিৎসা হবে না, এমন আশঙ্কা তাঁর। তাঁর কথার সূত্র ধরে শিশু বিভাগের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও ওয়ার্ডের বিছানার নিচে কুকুরের অবাধ বিচরণের সত্যতা পাওয়া গেল। সে সময় কথা হয় সদর উপজেলার আখানগর গ্রামের আছিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনই কুকুরগুলো এখানে ঢোকে। তাড়ালেও যায় না। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক শিশু রোগীর অভিভাবক আনিছুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, এত নোংরা ও অপরিষ্কার জায়গায় চিকিৎসার জন্য এলে আরও অসুস্থ হয়ে যেতে হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শামীম আরা নাজনীন বলেন, ‘এ সময়টাতে সব জায়গায় কুকুরের উপদ্রব দেখা যায়। হাসপাতালের কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছি কুকুরের ব্যাপারে যেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে জনবল কম থাকায় হয়তো তাঁদের চোখ এড়িয়ে কুকুর ওয়ার্ডে ঢুকে পড়তে পারে। আমরা চেষ্টা করব হাসপাতালের ক্যাম্পাসে যেন কুকুর ঢুকতে না পারে।’

জেলা সিভিল সার্জন আবু মো. খায়রুল কবীর বলেন, শুধু ওয়ার্ডে নয়, হাসপাতাল এলাকায় কুকুর ঘুরে বেড়ানোই রোগীর জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিষয়টি তাঁরও নজরে এসেছে।

No comments

Powered by Blogger.