ক্রিকেট নিয়ে জুয়া

বাজির ঘোড়া ছুটছে জোর কদমে। সাম্প্রতিক সময়ের ক্রিকেট ও ফুটবল অঙ্গনে স্পট ফিক্সিং আর বাজির দরদাম বহুল আলোচিত দুটি শব্দ। আন্তর্জাতিক জুয়াড়িদের ওপর নজরদারি বাড়ানো কিংবা স্পট ফিক্সিং প্রতিরোধে আইসিসি বা ফিফা কত না প্রযুক্তির শরণাপন্ন হচ্ছে ইদানিংকালে। তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জুয়াড়িদের রুখার এই প্রচেষ্টার ফাঁক গলে খেলা নিয়ে জুয়া চলছে এখন গলি থেকে রাজপথ সর্বত্রই। আধুনিক ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত অথচ জনপ্রিয় সংস্করণ টি–টুয়েন্টি ক্রিকেট। বিশ্বকাপ, আইপিএল, বিপিএল– যা–ই হোক না কেন জুয়ার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়ে গোটা দেশ। চলতি বিপিএল টুর্নামেন্টও বাদ যাবে কেন! তাই জুয়াড়িরাও বসে নেই। কোন টিম জিতবে, কে কত উইকেট পাবে, জিতলে রানে জিতবে না উইকেটে, নির্দিষ্ট একটি ওভারে রান কত হবে– ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে জুয়া চলছে সর্বত্র।

ক্রিকেটই যেন এখন দেশের মানুষের কাছে ধ্যান–জ্ঞান। বাংলাদেশের খেলার দিন ১৬ কোটি মানুষ তাকিয়ে থাকেন টিভিস্ক্রিনের দিকে। অনেকে আবার সময়–সুযোগ পেলে লাল–সবুজ জার্সি পরে চলে যান স্টেডিয়ামে। আর দেশের বাইরে খেলা হলে চোখ রাখেন টিভির পর্দায় কিংবা হেড ফোনে রেডিওতে শোনেন ধারা বিবরণী। বাংলাদেশের খেলার দিন শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও খবর রাখেন মাশরাফি–মুশফিক–সাকিবরা কমন খেলছেন। রিকশা চালক রিকশা থামিয়ে মোড়ের দোকানে উঁকি মারেন নিজ দেশের খেলোয়াড়দের পারফরমেন্স জানতে। আর এক ধরনের অসাধু চক্র মানুষের আবেগ–ভালবাসাকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়তই হাজার হাজার টাকার ফলাফল বাজি, ওভার বাজি, রানবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলছেন। এ জুয়াবাজির ফাঁদে পড়ে অনেকেই হয়ে যাচ্ছেন নিঃস্ব। টাকার লেনদেন নিয়ে অনেক সময়ই ঘটে নানা ধরনের বিপত্তির ঘটনা। পাড়া–মহল্লার অলিগলি, বাজার থেকে শুরু করে নগরীর অভিজাত হোটেলগুলোতেও চলছে বিপিএল নিয়ে জুয়া। চায়ের দোকান, রেস্তোঁরা, সেলুন, রিকশা গ্যারেজ ইত্যাদি কেন্দ্রিক ক্রিকেট জুয়ার আসর বসছে প্রতিদিন। এসব আসরে যোগ দেওয়া বেশির ভাগই শ্রমজীবী মানুষ। তাঁরা জুয়ার আসরে এসে প্রতিদিনই নিঃস্ব হচ্ছেন।

Comments