রাজশাহীতে শিশু হত্যার দায়ে তিনজনের ফাঁসির আদেশ নিজস্ব প্রতিবেদক,

রাজশাহীর মোহনপুরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য ১০ বছরের শিশুকে অপহরণ করে মাথা কেটে হত্যার মামলায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তিন আসামিকে ফাঁসি এবং অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিচারক শিরিন কবিতা আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যেকের আরও ২০ হাজার টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামির ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ি গ্রামে আবুল কাশেমের ছেলে মাজেদুল ইসলাম সাগর (২৮), হযরতের ছেলে নাজমুল হক (১৮) ও রাজ্জাকের ছেলে রিপন সরকার লিটন (২০)। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন আবুল কাশেমের স্ত্রী আসিনুর বেগম (৩০)। এ মামলায় মাজেদুল ইসলামের বাবা আবুল কাশেমসহ আরও দুজন আসামি ছিলেন। আদালত তাঁদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তাঁরা হলেন একই গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩০) ও আবদুল হাকিমের ছেলে মো. সাহাবুদ্দিন (২৪)।নিহত শিশুটির নাম ফজলে হোসেন ওরফে রাব্বী (১০)। তার বাবার নাম আলী হোসেন। বাড়ি উপজেলার বেড়াবাড়ি গ্রামে। ফজলে হোসেন বেড়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। শিশুটির বাবা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে ফজলে হোসেন ছোট। মুক্তিপণের দাবিতে আসামিরা শিশুটির বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে মাঠের মধ্যে তার লাশ পুঁতে রেখেছিলেন। অপহরণের ছয় দিন পর পুলিশ শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল। এ সময় শিশুটির মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন ও শরীর ক্ষতবিক্ষত ছিল। তার একটি হাতও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পুলিশ নয়জনকে আটক করেছিল। তাঁদের মধ্যে এই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও ছিলেন।মামলাটি প্রথমে মোহনপুর থানার পুলিশ তদন্ত করে। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে পাঠানো হয়। সিআইডি রাজশাহী জেলা শাখার পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম গত বছর মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি এন্তাজুল হক জানান, ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর বেড়াবাড়ি ডাইংপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে ফজলে হোসেন ওরফে রাব্বীকে (১০) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। মামলার ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করলেন।রায় ঘোষণার পর শিশুটির বাবা আলী হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রায় যথাযথ হয়েছে, তবে উচ্চ আদালতেও যদি এই রায় বলবৎ থাকে, তাহলে বলবেন রায়ে তিনি সন্তুষ্ট।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী মোজাম্মেল হক ও এমদাদুল হক। আসামিপক্ষের আইনজীবী একরামুল হক বলেন, তারা মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

Comments