ঘুম চোখে লা লিগার খেলা দেখার দিন শেষ!

সাধারণত এল ক্লাসিকোর খেলা হয় স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়। ইউরোপের সন্ধ্যা মানে এশিয়ার গভীর রাত। তখন ঢুলুঢুলু চোখে না যায় খেলা দেখা না আসে ঘুম। এশিয়ার ফুটবল পিপাসুদের কথা মাথায় রেখেই প্রথমবারের মতো এল ক্লাসিকোর ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে স্থানীয় সময় দুপুরে। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের ‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচের আগে বার্তা সংস্থা এএফপিকে লা লিগার প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা জোরিফ এভারস বললেন, ‘এশিয়ার দর্শকদের খেলা দেখানোর জন্য আমরা মুখিয়ে আছি। তারা যাতে সুবিধাজনক সময়ে বার্সা-রিয়ালের খেলা উপভোগ করতে পারে সে জন্যেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।’ লা লিগা আয়োজকদের হিসেব মতে, সম্ভাব্য ৬৫ কোটি টেলিভিশন দর্শকদের সবচেয়ে বেশি অংশটা এল ক্লাসিকোর ম্যাচগুলো দেখে। কাতালোনিয়া আর রিয়ালের ভিন্ন সংস্কৃতি এবং বড় তারকাযুক্ত ক্লাবগুলো অংশগ্রহণ এই জনপ্রিয়তার কারণ। হোসে মারিয়া গ্যা দি লিয়েবানা বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। স্পেনের ফুটবল অর্থনীতির একজন বিশেষজ্ঞও তিনি। তাঁর মতে, স্পেনের ফুটবলকে বিশ্বের দর্শকদের দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এটা মোক্ষম উপায়। লা লিগার এই উদ্যোগ শুধু টেলিভিশন দর্শক বাড়ানো কিংবা দুই জায়ান্ট ক্লাবকে দ্রুত ম্যাচ শুরুর সুযোগ করে দেওয়া নয়; বরং বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রচারের জন্যও অনেক বড় সুযোগ। এই যেমন গত বছরই বার্সেলোনা জাপানের অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান র্যাকুটেনের সঙ্গে চার বছরের জন্য ২৫৮ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। তারা যে শুধু ইউরোপে পণ্য বিক্রি করতে চায় তা কিন্তু নয়। বিজ্ঞাপনদাতারা চায় সারা বিশ্বে তাদের ক্রেতা তৈরি হয়।
দেশে এবং দেশের বাইরে টেলিভিশন সত্ত্ব থেকে প্রিমিয়ার লিগ এক মৌসুমে আয় করে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। আর লা লিগা আয় করে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। প্রিমিয়ার লিগের তুলনায় অঙ্কটা বেশ কমই! প্রিমিয়ার লিগের এই বিশাল মুনাফা অর্জনের পেছনে এশিয়ান দর্শকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ, ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে এশিয়াতেই প্রিমিয়ার লিগের দর্শক বেশি। তাই লা লিগার এমন উদ্যোগ মুনাফা বাড়িয়ে প্রিমিয়ার লীগকে পেছনে ফেলার চেষ্টার এটা যে প্রথম ধাপ তা বলাই যায়।ঘুম চোখে লা লিগার খেলা দেখার দিন শেষ!

Comments