বাসের ভাড়া কমল, তবে অনিয়ম কমেনি



ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী কুড়িল-পূর্বাচল এক্সপ্রেস সড়কে চালু হওয়া বাসের ভাড়া কমিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিসি)। তবে এবারও তারা সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার হার মানেনি।

৩০০ ফুট নামে পরিচিত সড়কে বিআরটিসির বাস সেবা চালু এবং ভাড়া নিয়ে অনিয়মের বিষয়ে গতকাল বুধবার প্রথম আলোতে ‘বাসে স্বস্তি, ভাড়ায় বিস্ময়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই গতকাল ভাড়া কমায় বিআরটিসি।

বিআরটিসি নতুন করে এই পথে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করেছে ১০ টাকা। আগে ছিল ২০ টাকা। কিন্তু বড় বাসে সরকার-নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ টাকা। আর প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১ টাকা ৭০ পয়সা।

কিন্তু সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি সরকার-নির্ধারিত ভাড়া মানছিল না ৩০০ ফুট সড়কে। অনিয়ম করে সর্বনিম্ন ভাড়ার পাশাপাশি কিলোমিটারপ্রতি ভাড়াও বেশি নিচ্ছিল তারা।

গত শুক্রবার তিনটি আর্টিকুলেটেড (জোড়া) বাস নিয়ে নতুন এই পরিবহন সেবা চালু হয়। শুরু থেকেই যাত্রীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় পাঁচ দিনের মধ্যে বাসের সংখ্যা আটটিতে উন্নীত করা হয়। গতকালও আরেকটি বাস এই বহরে যুক্ত হয়েছে।

শুরুতে বিআরটিসি কুড়িল থেকে বালু সেতু পর্যন্ত চার কিলোমিটার পথে যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা নিচ্ছিল। কুড়িল থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পথের ভাড়া নিচ্ছিল ৩০ টাকা। সরকারি হিসাবে ভাড়া হওয়ার কথা ২৩ টাকা ৮০ পয়সা। আবার কুড়িল থেকে ভুলতা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার পথের ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল ৪৫ টাকা। ভাড়া হওয়ার কথা ৩৭ টাকা ৪০ পয়সা।

প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের দিন গতকাল নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। বিআরটিসির গাজীপুর ডিপোর ব্যবস্থাপক (পরিচালন) মো. শাহরিয়ার গত সন্ধ্যায় বলেন, নতুন করে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। এ ছাড়া কুড়িল থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত ভাড়া ২৫ টাকা ও ভুলতা পর্যন্ত ভাড়া ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে শাহরিয়ার বলেন, ‘আসলে আমাদের এক স্টপেজ থেকে অন্য স্টপেজের যে দূরত্ব, তা ন্যূনতম ভাড়াকে ছাপিয়ে যায়। এ জন্য ন্যূনতম ১০ টাকা করা হয়েছে।’

এ মুহূর্তে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাসগুলো ছাড়লেও এর নির্ধারিত রুট হচ্ছে রামপুরা সেতু থেকে বাড্ডা, নতুন বাজার, কুড়িল বিশ্বরোড, বালু ব্রিজ ও কাঞ্চন সেতু হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা (গাউছিয়া) পর্যন্ত। বাড্ডায় ইউলুপ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর রামপুরা সেতুর কাছ থেকে বাসগুলো ছাড়বে।

ঢাকার দক্ষিণের প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী এবং উত্তরের টঙ্গী-আবদুল্লাহপুরের যানজট এড়িয়ে দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং সাভার, আশুলিয়া ও টঙ্গী এলাকায় যাওয়ার সহজ পথ ৩০০ ফুট সড়ক।

Comments