পরিষ্কার হচ্ছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত



কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে সৈকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ শনিবার সকালে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ১৫ দিনের মধ্যে সৈকতের সব ধরনের আবর্জনা অপসারণ করা হবে।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. মাছুমুর রহমান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকেরা এ কাজে অংশ নেন। প্রথম দিন কুয়াকাটা সৈকতের মাঝামাঝি স্থান থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকায় গিয়ে প্রথম দিনের অভিযান শেষ হয়।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, কুয়াকাটা সৈকতে বেড়াতে আসেন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। কিন্তু এই সৈকত সুরক্ষায় কারও নজর নেই। সৈকতে যাওয়ার প্রধান সড়কটি পেরিয়ে সামনের বালুচরে পা দিতেই চোখে পড়বে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। সৈকতের জিরো পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত এ স্থানটির চারদিকে ডাবের খোসা, নারকেলের ছোবরা, বিড়ি-সিগারেটের প্যাকেট, বিস্কুট-চানাচুরের প্যাকেট ও পলিথিন পড়ে থাকে। তা ছাড়া শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণের বর্জ্যও ওই এলাকায় ফেলার কারণে দূষিত হচ্ছে সৈকতের পরিবেশ। সৈকতের পূর্ব দিকে বন বিভাগের জাতীয় উদ্যান এবং গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চল-সংলগ্ন আকর্ষণীয় পয়েন্টগুলোর অবস্থাও একই রকম।

কলাপাড়ার বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির সহকারী পরিচালক মো. আছাদউজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা উৎসাহ নিয়ে স্বেচ্ছায় এ কাজ করছেন। এতে কলাপাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়েছেন।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মাছুমুর রহমান বলেন, ‘কুয়াকাটায় খুব দ্রুত একটি পর্যটন পার্ক নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া পর্যটকদের সুবিধার জন্য সহায়তা কর্নার চালু করা হবে। কুয়াকাটায় আসা পর্যটকেরা এখান থেকে পর্যটন-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা পাবেন।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর রহমান, কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আবদুল করিম, কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা, বরিশালের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপপরিচালক মো. আবদুর রশিদ প্রমুখ।

Comments